১৩ শ্রেণীর মানুষের কোন ইবাদত কবুল হয় না

অন্যান্য

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন একমাত্রই তার ইবাদতের জন্য যদিও আমরা মানুষ দুনিয়াতে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবি শুধুমাত্র ইবাদত ছাড়া কিন্তু মূলত আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন তার ইবাদত ও তার বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য। যদিও আমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত যতটুকু করার দরকার ততটুকু করতে পারিনা এরপরেও যতটুকুই করি এটাও যদি আল্লাহর কাছে কবুল না হয় তাহলে কিয়ামতের দিন আমরা বড়ই বিপদে পড়বো তাই জানা দরকার যে কে বা কাদের এবাদতগুলো আল্লাহর কাছে কবুল হয় না তাই আজ তেরশ শ্রেণীর মানুষ যাদের ইবাদত কবুল হয় না সে সম্পর্কে কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব। মনে রাখতে হবে আমাদের সকল আমল ও ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে রাজি খুশি করার জন্যই আমরা করে থাকি কিন্তু সেটা যদি সে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল না হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের কপাল পোড়া।

প্রথম যে ব্যক্তির কথা সে ব্যক্তির কথা সুনানে নাসাইর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ওই ব্যক্তি যে ব্যক্তি প্রথমে ইসলাম ধর্মে ছিল না কিন্তু কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরপরে সে আবারো শিরকিয়তের মধ্যে পড়ে গেছে অর্থাৎ সে কালেমা পড়ে মুসলমান হওয়ার পরে আবারো সে আগে যে ধর্মে ছিল সে ধর্মে যে কাজগুলো সে করতো শিরকের কাজ সেগুলোর মধ্যে ফিরে গেছে তাহলে এই অবস্থায় তার কোন আমল হবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত সে আবার তওবা করে মুসলমান হয়ে সেই পূর্বের জায়গা ত্যাগ করে মুসলমান সমাজের মধ্যে মুসলমানদের মধ্যে বসবাস না করছে অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যদি ওই সমাজ যে সমাজ ত্যাগ করে এসেছিল সেই সমাজে প্রত্যাবর্তন করে এবং সেখানে উপস্থিত থেকে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাওবা করে পুনরায় তবুও তার সে আমল কবুল হবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত সে পুনরায় ইসলামী সমাজে এসে মুসলমানদের মধ্যে থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করে কালেমা পড়ে ইবাদত শুরু করবে। দ্বিতীয় যে ব্যক্তির কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সে ব্যক্তি হলো যে নামাজ আদায় করে কিন্তু পবিত্রতা ছাড়া অর্থাৎ পবিত্র না হয়েই সে নামাজ আদায় করে।

আমরা সকলেই জানি যে সালাতের জন্য শর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন করা এখন আমি যদি ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন না করি যেমন আমার ওযুর সময় কোন অংশ সুখ না থাকে অথবা আমি ফরজ গোসল ভালো করে না করি তাহলে সে ক্ষেত্রে আমার পবিত্রতা যেহেতু অর্জন হয় নাই তাই আমার ইবাদত কবুল হবে না। তৃতীয় ঐ ব্যক্তি যে দান করে কিন্তু তার আই হালাল না অর্থাৎ একজন ব্যক্তি সে দান করে ঠিকই কিন্তু তার যে আই তার যে ইনকাম সেটা হালাল পথে না বা তার সেই অর্থ হালাল না এমত অবস্থায় সে ওই অর্থ যদি দান করে তাহলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তৃতীয় ওই মহিলা যে সালাত আদায় করে কিন্তু সালাতের সময় খেমার পড়ে না অর্থাৎ ওড়না পরেনা। সুনানে আবু দাউদ এর হাদিসে আসছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন। প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা যদি সে নামাজ আদায় করে এমন অবস্থায় যে তার মাথায় ওড়না নেই তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নামাজকে কবুল করবেন না। অর্থাৎ যেভাবে সতর ঢেকে নামাজ আদায় করতে হয় সেভাবে সতর ঢেকে নামাজ আদায় না করলে সে নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। সালাতের মধ্যে সতর হলো তার মুখমন্ডল ছাড়া এবং অনেকে বলেছেন দুই হাতের কব্জি ছাড়া এবং দুই পায়ের পাতা ছাড়া কেউ আবার দুই পায়ের পাতা কেও যোগ করেছেন আর এছাড়া বাকি পুরো শরীর ঢেকে চুল সেটাও দেখা যাবে না খোলা রাখতে পারবে না। পাঁচ নাম্বার ওই মেয়ে যার সালাত আল্লাহ তায়ালা কবুল করবে না। যে নামাজে যাওয়ার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন মেয়ে যদি নামাজ আদায় করে ইবাদত করে তাহলে সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।

৬ নাম্বার ওই ব্যক্তি যে কিনা কোন মসজিদের ইমাম কোন মহল্লার ইমাম কিন্তু তার ওপর মুসল্লিরা অসন্তুষ্ট কিন্তু এখানে একটি কথা বর্তমান সময়ে কিছু মানুষ কোন কারণ ছাড়াই অসন্তুষ্ট থাকেন এই রকম হলে নয় বরং কোন যুক্তিযুক্ত কারণ যদি থাকে আর সে কারণে মুসল্লিরা তার প্রতি নারাজ হয়ে থাকে তাহলে তার এই ইবাদত কবুল হবে না। ৭ নাম্বার ওই মহিলা যার পুরা রাত অতিক্রম হয়ে যায় কিন্তু তার স্বামী তার ওপর রাগান্বিত থাকে অর্থাৎ স্বামী যদি তার স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে আর এভাবে যদি একটি রাত পার হয়ে যায় তাহলে তার সেই ইবাদত কবুল হবে না। কিন্তু স্বামী যদি কোন অকারণবশতই অসন্তুষ্ট হয় যেটার কোন যুক্তি নাই তাহলে সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। ৮ নম্বর ওই গোলাম বা ক্রীতদাস যে মালিক থেকে তার অনুমতি ছাড়াই পালিয়ে যায়। ৯ নাম্বার ঐ ব্যক্তি যে কিনা মদিনার মত একটি শহর যে শহর পৃথিবীর দ্বিতীয় তম পবিত্র শহর যে শহর আল্লাহর নবীর স্মৃতি বহন করে যে শহর কিয়ামতের আগে পর্যন্ত দাজ্জালের ফেৎনা থেকে মুক্ত থাকবে যে শহরের বহু ফজিলাতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে সেই শহরে যে ব্যক্তি ফিতনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে এই ব্যক্তির কোন নফল ফরজ কোনরকম কোন আমল এই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।

১০ নাম্বার ওই ব্যক্তি যে পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান অর্থাৎ মহান আল্লাহর পরে পৃথিবীতে যাদের স্থান সম্মানিত মাতা ও পিতা তাদের যে কথা শোনে না তাদেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে না তাদের প্রতি কোন দায়িত্ব পালন করে না তাদের হক আদায় করে না তার কোন আমল আল্লাহ তায়ালা কবুল করবে না। ১১ নাম্বার ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি দান করে খোঁটা দেয় এ বিষয়টি আমরা সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও এটি অনেক জটিল একটি বিষয় আমরা সাধারণত খুব সহজেই এভাবে বলি যে এত খাওয়াইছি এত পড়াইছি তাও সে এটা করল সেটা করল আমার কথা শুনল না আমি যা চাই তা দিল না এটা আসলে ঠিক না। এমনটি বলা ঠিক না এমনটি বললে আল্লাহ তাআলা নারাজ হন এবং আল্লাহ না করুক এমনও হতে পারে যে আপনার আর কোন আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হবে না। ১২ নাম্বার হল ওই ব্যক্তি যে তকদির কে ভাগ্যকে অস্বীকার করে আসলে সকলেরই ভাগ্য নির্ধারণ থাকে তাই ভাগ্যকে অস্বীকার করা এটা আসলে বোকামি ওই ব্যক্তি যে ভাগ্যকে অস্বীকার করে তার কোন আমলও আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হবে না। ১৩ নাম্বার ও সর্বশেষ পয়েন্ট ওই ব্যক্তি যে একজন শাসক এবং সে আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন সে বিধানের বিপরীতে সে বিধান ছাড়া তার হুকুমত পরিচালনা করে তার কোন সালাতও আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এ বিষয়গুলি মনে রেখে তার ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন!