হালাল ও হারাম এই দুইটি বিষয় এমন যেমনটি কোন বিষয়ে আদেশ ও নিষেধ বলতে আমরা বুঝি হালাল ও হারাম এটি আর আরবি শব্দ হালাল শব্দের অর্থ হলো অনুমোদন যোগ্য। এর বিস্তারিত বলতে গেলে হালাল শব্দের অর্থ হলো যেকোনো বস্তু বা কর্ম যেটাকে ইসলামী আইন অনুযায়ী ব্যবহার বা নিয়োজিত করা যাবে অথবা আদেশ করা হয়েছে সেগুলোকে হালাল বলে।
হারাম হারাম আরবি শব্দ। এবং এটি একটি ইসলামের পরিভাষা। এই শব্দ দ্বারা নিষিদ্ধ কাজ কে বোঝানো হয় ইসলামী আইন অনুযায়ী মন্দ কাজ সমূহের মধ্যে যে সমস্ত কাজগুলি ইসলামে হারাম বলা হয়েছে সেগুলি অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হারাম উপার্জন এটি মানুষের অত্যন্ত ক্ষতি করে হারাম এমন একটি গুনাহ এমন একটি বিষয় যার ক্ষতি যার আযাব দুনিয়া থেকে শুরু হয় এবং কবরে আখিরাতে প্রত্যেকটি জায়গায় এর জন্য মানুষকে শাস্তি পেতে হবে। যে ব্যক্তি হারাম ডিজিট ভক্ষণ করবে আখিরাতে তাকে হারামখোর হিসেবে উঠানো হবে এরপরে সর্বশেষ চূড়ান্ত জাহান্নামে তার ঠিকানা হবে। আর এটি একটি এমন পাপ যে পাপের প্রভাব নিজের উপরে পড়ে নিজের পরিবারের উপর পড়ে নিজের সমাজের উপরে পড়ে এমনকি দেশ ও জাতির উপরেও পড়ে।
কিছু ক্ষতি মানুষের দুনিয়াতে আছে যেটি হারাম উপার্জনের কারণে হয়ে থাকে আমাদের মধ্যেই কিছু মানুষ এমন আছে যারা এভাবেই বলে যে ইনকাম করতে হবে সেটা যেভাবেই হোক তাই একটু সময় নির্ধারণ করে বলে কথার কথা ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমি ইনকাম করব যেভাবে পারি সেভাবে করব ডান থেকে হোক বাম থেকে হোক সামনে থেকে হোক পিছন থেকে হোক হালাল হোক হারাম হোক যেভাবে পারব সেভাবে ইনকাম করব এরপর ৪৫ এ গিয়ে একটি ওমরা করব এরপরে ৪৭ অথবা এর কিছু আগে পরে গিয়ে একটি হজ করব তারপর থেকে পীর সাহেব হয়ে যাব মানে এটা বোঝাতে যায় যে এরপর থেকে সে একদম সাধু হয়ে যাবে নেককার হয়ে যাবে। মানে পৃথিবীর যত আকাম-কুকাম আছে যত অনিষ্ট আছে সকল কিছুকে সে আনজাম দিয়ে সকল কিছু করে এরপরে সে একটা সময় এসে আল্লাহ ওয়ালার বেশ ধরবে কিছু টাকা পয়সা মসজিদ মাদ্রাসায় দিয়ে সেগুলোর বিশাল দানকারী হিসেবে কিছু একটা পদ নেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং সকলকে দেখাবে যে সে কত বড় আল্লাহর নেককার বান্দা যে নামাজ-কালাম সহ মসজিদ মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত সবসময় আল্লাহর এবাদত করে এমন নজির অহরহ পাবেন এমন লোকের বর্তমানে একটি বিশাল জামাত আমাদের এই শেষ জামানায় রয়েছে।
আপনি ভেবে দেখুন তো যে কোন একটা বিষয়ে আপনি জানেন না বা আপনার মনে নাই ভুলবশত হয়ে গেছে সেটি কেমন আর কিছু বিষয়ে এমন আছে যে আপনি জানেন অথচ ইচ্ছা করে সেটি ভুল করতেছেন বা ইচ্ছা করে আপনি যেটা করার কথা সেটা করতেছেন না তাহলে সেটা কেমন, যে সমস্ত মানুষেরা এভাবে জীবনকে পরিচালনার কথা চিন্তা করে অবশ্যই তারা ভুলের পথে রয়েছে এবং তারা সকলের পূর্বে এই বিষয়টির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারণ সে এ বিষয়টি জানা সত্ত্বেও নিজ ইচ্ছায় এমনটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আচ্ছা আরেকটা কথা যে সে যে হজ করবে ওমরা করবে এটার জন্য যে অর্থটি প্রয়োজন হবে সেটি সে কোথায় পাবে তার সেই হারাম উপার্জনের সেই টাকা দিয়ে সে হজ করবে ওমরা করবে তাহলে সেটা কি কবুল হবে..? আমার নামাজ যে আদায় করবেন তো যে রুটি রুজি খেয়ে আপনি নামাজ আদায় করবেন সেটাও তো আপনার সেই হারাম উপার্জন থেকেই এসেছে তাহলে সে নামাজও কি কবুল হবে..? হারাম খাদ্য দিয়ে আল্লাহর এবাদত করলে আল্লাহ সেই ইবাদত কবুল করে না এটা আমরা প্রায় সকলেই জানি।
এজন্য আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনে কারীমের সূরা বাকারার ১৭২ নাম্বার আয়াতের মধ্যে বলেছেন يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَـٰتِ তোমরা উত্তম এবং পবিত্র ভালো খাবার গ্রহণ করো যেগুলোকে হালাল করা হয়েছে। এবং অন্য একটি আয়াতে বলেন এবং সৎ কাজ করো । এবং সূরা বাকারার মধ্যে আরো বলেন হে মুমিনগণ তোমরা আহার কর হালাল রিযিক থেকে যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি যদি তোমরা মহান আল্লাহর ইবাদত কর। এবং আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন তোমরা নামাজ আদায় করে জমিনে ছড়িয়ে যাও হালাল রিজিকের তালাশ করো। আমরা যদি একটু সহজে ভাবি তাহলে হয়তো বুঝতে পারবো পৃথিবীতে আমার আপনার কোন কিছু প্রয়োজন হলে সেটা যদি আমার আয়ত্তের বাইরে হয় তাহলে আমরা কারো কাছে সাহায্য চাই বা যে ব্যক্তির কাছে গেলে আমাদের এই সমস্যাটার সমাধান হবে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি যদিও সকল কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তিনি সবকিছুর সমাধান করেন কিন্তু একজন উসিলা বা মাধ্যম নির্ধারণ করি যার কাছে আমি কোন বিষয়ে সাহায্য চাইতে গেছি তখন আমরা চেষ্টা করি যে সে কি চাই এবং তার সামনে কোনটা করা যাবে কোনটা করা যাবে না ইত্যাদি অনেক বিষয় আমরা লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করি কিন্তু আমাদের সকলের সকল সৃষ্টিকর্তা এই জগৎ এর প্রতিপালক সকলের রিজিকদাতা মহান আল্লাহ তায়ালা যিনি একাই আমাদের সকল প্রয়োজন একাই আঞ্জাম দিয়ে থাকেন।
তার কাছে আমি কোন বিষয়ে সাহায্য চাচ্ছি অথচ তার কোন কথা আমি শুনি না তার কোন আদেশ-নিষেধ আমি পালন করি না এমনকি আমার মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত সবকিছুতেই হারামের পদতছাপ দেখা যায় আমার পোশাক আমার চলাফেরা আমার আই আমার ব্যয় সকল কিছুতেই তাহলে আমরা কিভাবে ভাবতে পারি যে আমাদের সেই আমল তিনি কবুল করবেন। অর্থাৎ এটা আমরা নিঃসন্দেহে ভাবতে পারি যে এই রকমটা যদি আমরা কেউ করে থাকি তাহলে আমাদের এই সকল দোয়াগুলো আমাদের সকল প্রয়োজনগুলো আল্লাহতালা কবুল করবেন না আমাদের দোয়া কবুল হবে না। যারা হারাম ভক্ষণ করবে তাদের যে ক্ষতিগুলো হবে। প্রথম যে ক্ষতিটা তাদের হয় সেটি হল যারা হারাম ভক্ষণ করে তাদের কোন কিছুতে বরকত থাকে না এমন অনেক ব্যক্তিবর্গ আমাদের আশেপাশে বা আমাদের দেশে রয়েছে যাদের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম কিন্তু মাস শেষে তার কেমন জানি টানা পড়া সকল কিছুতে অশান্তি বোধ করে। বিপরীতে এমনও ব্যক্তিবর্গ রয়েছে যারা হালাল উপার্জন করে অল্প ইনকাম কিন্তু মাস শেষে গিয়ে দেখা যায় সে অনেক শান্তিতে আছে সুখে আছে এবং দেখা যায় যে তার উপার্জনের কিছু অংশ তার গচ্ছিত রয়ে গেছে। দ্বিতীয়তঃ যারা হারাম উপার্জন করে তাদের আল্লাহ ধ্বংস করে দেন আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজে তাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন কথাটি যত সহজে বললাম বা পড়লাম বিষয়টি এত সহজ নয় স্বয়ং আল্লাহ যিনি এই পুরো জগতটাকে পরিচালনা করেন এবং আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা তিনি যদি আমাদের বিপক্ষে থাকেন তাহলে কি আর আমাদের কারোর রক্ষা আছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেন হে মুমিনগণ তোমরা হারামকে ট্যাগ কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন তোমরা যদি এটা ছেড়ে না দাও তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম ভক্ষণ করল সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা করলো। নাউজুবিল্লাহ! এছাড়াও কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা হারাম ভক্ষণকারীদের সাথে কথা বলবেন না এমনকি তাদের দিকে তাকাবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক মর্মান্তিক শাস্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিনি সুদখোর এর লেখক এবং এর সাক্ষী সকলের উপর অভিসম বাপ করেছেন এবং বলেছেন এরা সবাই সমান অপরাধী। অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ঘোষ দাতা এবং গ্রহীতার উপরে আল্লাহর অভিশাপ। তারা দুজনেই জাহান্নামী। যারা হারাম উপার্জন করে তারা কবরের মধ্যেই শাস্তির মুখোমুখি হবে। তাই আমরা সকলেই চেষ্টা করব হারাম থেকে বাঁচার হারাম থেকে বেঁচে সঠিক পথে জীবনকে পরিচালনা করার জন্য। হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলার জন্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তৌফিক দিন। আমিন!