সূরা মূলক যেটি পবিত্র কুরআনের ২৯ নাম্বার পাড়া এর শুরু এবং সূরার দিক থেকে ৬৭ নাম্বার সিরিয়াল এবং হেফজুল কোরআন এর ৫৬৩ নাম্বার পৃষ্ঠা। সূরা মুলক এর প্রথম আয়াত হলো
تَبَـٰرَكَ ٱلَّذِى بِيَدِهِ ٱلْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ
সুরা মুলকের অনেক ফজিলত রয়েছে তার মধ্যে কিছু ফজিলত তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সুরা মুলক পাঠের প্রথম ফজিলত হল এই সূরা যে ব্যক্তি রাত্রেবেলা পাঠ করবে সুরা মুলক তার সাথে কবরেও থাকবে। এবং কবরের আজাব থেকে তাকে বাঁচাবে। এবং দুইজন ফেরেশতা যখন তার কাছে আসবে তখন নামাজ বলবেন এইখান দিয়ে আসা যাবেনা ডান দিক দিয়ে আসতে চাইবেন তখন আবার বলবেন আসা যাবেনা বাম দিয়ে আসতে চাইবেন যাকাত বলবে আসা যাবেনা যখন পায়ের দিক দিয়ে আসতে চাইবেন তখন তার যত আলো আমল ছিল তারা বাধা দিবে এবং বলবে এদিক দিয়ে আসা যাবে না এরপরে তারা আসবেন আসলে যে কথাগুলো বললাম এটা বোঝানোর জন্য যে নামাজ এবং আমল কতটুকু জরুরী যদি আপনার নামাজ যাকাত আমল রোজা এসব ঠিক থাকে তাহলে কবরের আজাব থেকে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আপনি অবশ্যই বাঁচবেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন।
এখন আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন আপনাকে আজাব দেওয়ার সময় নামাজ বলবে এ ব্যক্তি নামাজ পড়েছে আমি তার সাথে আছি যখন আপনি রোজা করবেন যখন আপনাকে শাস্তি দেওয়া হবে তখন সে বাধা দিবে এইভাবে আপনি যে সকল আমলগুলো আল্লাহর যে সকল আদেশগুলো আপনি এই দুনিয়ায় পালন করে যাবেন সকলেই আপনার পক্ষ হয়ে আপনার সুপারিশ করবে এবং আল্লাহর কাছে এটা প্রমাণ করবে যে আপনি একজন নেক্কার মানুষ ছিলেন আপনি নামাজ পড়তেন দোয়া করতেন রোজা রাখতেন দান করতেন অতএব আপনাকে যেন জান্নাত দেওয়া হয় এটা সকলেই সুপারিশ করবে। কবরে যখন প্রশ্ন করা হবে মান রব্বুকা তোমার রব কে তখন মুমিন বান্দা রাব্বি আল্লাহ আমার রব আল্লাহ। তে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরিক করবে না এবং আল্লাহর বিধি নিষেধ মেনে চলেছে সে অবশ্যই এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ। আর দুনিয়াতে যেবা যারা আল্লাহর সাথে শিরিক করবে তারা যদি দুনিয়াতে অনেক সম্পদের মালিক হয়ে থাকে অনেক টাকা পয়সা ওয়ালা হয়ে থাকে তবুও আখেরাতে দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর সে দিতে পারবে না এবং এমন কেউ থাকবেও না যে তাকে সাহায্য করবে।
এভাবে প্রশ্নগুলো করা হবে তাকে যদি সে ব্যক্তি দিনের পথে চলে থাকে তাহলে সে বলতে পারবে যে তার দিন কি এবং যদি সে নবীকে অনুসরণ করে থাকে নবীর পথে চলে থাকে নবীর প্রতি তার ভালোবাসা থাকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে সে তার ধর্ম কি তার নবীকে সেটা সে চিনতে পারবে। এভাবে তার আমলের কারণে আমলের কারণে তার জাহান্নাম এবং জান্নাত যে কোন একটি ফায়সালা হবে যদি জাহান্নামের ফায়সালা হয় তাহলে তাকে আগুনের সাগরের মধ্যে পোড়ানো হবে তাকে আযাবের পর আযাব দেওয়া হবে। আর সূরা মুলক যদি তেলাওয়াত করে থাকি তাহলে যে বলা হয়েছে সুরা মুলক পাঠের কারণে কবরের আজাব হবে না সেই আজাব থেকে আমরা মুক্তি পাব। এবং হাদিসে এমনও আছে যে সূরা মূল কিয়ামতের দিন তার তেলাওয়াতকারী কে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে এবং যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে দেওয়ার ফয়সালা করতেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চলমান থাকবে। সুবহানাল্লাহ! এবং সূরা মূলক রাত্রে তেলাওয়াত করার কারণে যে তেলাওয়াত করবে তার পুরা রাত্রি টাই বরকতময় করে দিবেন আল্লাহ। আমাদের নবী আমাদেরকে আদেশ করেছেন যেন আমরা এই সূরাটা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে রাখি। এছাড়াও আরো অনেক ফজিলত রয়েছে সূরা মুলকের তাই আমরা প্রত্যেকদিন বিশেষ করে রাত্রিবেলা একবার হলেও সূরা মূলক পাঠ করার চেষ্টা করব। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন!