প্রিয় পাঠক আজ আমরা জানবো আমরা সিয়াম বা রোজা কেন রাখি। প্রিয় পাঠক আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা আমাদেরকে যে সকল ইবাদত দিয়েছে প্রত্যেকটি ইবাদতেরই একটি লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রয়েছে এবং সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালে জান্নাত হাসিল করা। তবে প্রত্যেকটি কাজেরই প্রাথমিক লক্ষ্য যদি আমরা অর্জন করতে সফল হয় তাহলেই আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল হতে পারব অন্যথায় এটা সম্ভব না। এজন্য প্রত্যেকটা মুমিন এবং মুসলিমকে তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা অবশ্যই রাখতে হবে। এখন আমরা যে সিয়াম, সোউম, বা রোজা যে যেটাই বলে থাকি না কেন আমরা যে এই রোজা রাখি এখানে একটা বিষয় অনেক দুঃখের হলেও এটাই বাস্তব যে আমাদের এই বেশিরভাগ মুসলিম ভাই ও বোনেরা জানিনা যে তাদের এই রোজা রাখার উদ্দেশ্য কি কেন বা সে সারাদিন পানাহার ব্যতীত আছে সেটা জানে না। আসুন আজ আমরা জেনে নিই কেন আমরা রোজা রাখছি আমাদের রোজার উদ্দেশ্যটা কী……?
মহান আল্লাহ তাআলা সূরাতুল বাকারার ১৮৩ নাম্বার আয়াতের এরশাদ করেন।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপরে সিয়ামকে ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে ফরজ করা হয়েছিল। এই সিয়াম ফরজ করা বা বাধ্যতামূলক করা এর মূল উদ্দেশ্য কারণ হলো لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। এর থেকে আমরা এটা বুঝতে পারলাম যে কেন আমরা রোজা রাখব বা আমরা সিয়াম পালন করব। এই রোজার মাধ্যমে আমরা মুত্তাকী হতে পারব তাকওয়া অর্জন করতে পারব আর মুত্তাকী হতে পারা বা তাকওয়া অর্জন করতে পারা এর মানে হলো মধ্যে এমন একটি চেতনার সৃষ্টি হবে যার মাধ্যমে আমি হালালকে হালাল হারাম কে হারাম সঠিক কে সঠিক বেঠিককে বেঠিক বলে জানব আমাদের অন্তরে এমন একটি আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে যার কারণে আমরা সকল গুনাহ থেকে বাঁচতে পারব এবং আল্লাহর সকল বিধি-নিষেধ গুলো সঠিকভাবে মেনে চলতে পারব। এর চেতনাটাই সৃষ্টি হবে এই সিয়াম বা রোজা রাখার মাধ্যমে এখন আমি যদি এই সিয়ামের উদ্দেশ্যটাই না জানি তাহলে আমার মধ্যে এগুলো কোথায় থেকে আসবে।
এছাড়াও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাদিসের মধ্যে বলেন
من لم يد قول الزوري والعمل به فليس لله حاجه ايد عطامه وشرابه
এর অর্থ হল যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যা কথা অনৈতিক কাজ এগুলো পরিহার করলো না এই ব্যক্তির উপবাস থাকা আল্লাহর কাছে কোন কাজেই আসবে না। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা এখানে আমাদেরকে এখানে সতর্ক করছেন যে রোজা রাখা অবস্থায় মিথ্যা কথা অনৈতিক কথা ও কাজ এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় আমাদের এই রোজা সারাদিন পানাহারে থাকা কোন কাজেই আসবে না। এই হাদিস থেকেও আমরা এই বার্তা পাচ্ছি পরিষ্কারভাবে যে সিয়াম সোউম বা রোজা এর উদ্দেশ্য হল আমাদেরকে মুত্তাকী বানানো আমাদেরকে পরহেজগার বানানো আমাদেরকে আল্লাহমুখী করা তাই আমরা সকলেই অবশ্যই এই বিষয়গুলি মেনে চলার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।