যে দুটি পাপ করলে তাহাজ্জুতেও দোয়া কবুল হয় না

দোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! আজ যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সেটি হল এমন দুইটি পাপ যেটি করার কারণে তাহাজ্জুদ নামাজ এর সময় দোয়া করলেও দোয়া কবুল হয় না। দোয়া এমন একটি জিনিস যেটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তার কাছেই আমাদের সকল চাওয়া পাওয়া তুলে ধরি এই দোয়ার মাধ্যমে কিন্তু যদি আমার এই দোয়া কবুল না হয় তাহলে আল্লাহর কাছে আমার আপনার যে চাওয়া পাওয়া গুলো রয়েছে সেগুলোর কিছুই সম্ভব না। কারণ মহান আল্লাহ তাআলাই এমন একজন স্রষ্টা এমন একজন প্রতিপালক যে তিনি ব্যতীত অন্যকেও আমাদেরকে আমাদের সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলো দিতে পারেন না। এমনকি কাল কেয়ামতের মাঠে আমাদেরকে ক্ষমা করে জাহান্নাম থেকে রক্ষা দিতেউ পারেন না। তিনি আমাদের প্রতিপালক আমাদের রিসিভ দাতা আমাদের সৃষ্টিকর্তা এই আসমান জমিন চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র সকল কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন।

তাই তার কাছে থেকে দোয়ার মাধ্যমে যখন আমরা কিছু চাইবো তখন আমাদের এই দোয়াটি কবুল হওয়ার জন্য যেই দুইটি জিনিস বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেগুলো পরিত্যাগ করে চলবো এজন্যই মূলত এই দুইটি বিষয় আলোচনা করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ আজকে এই আর্টিকেল থেকে পাঠকরা উপকৃত হবেন। যে দুটি বাপ করলে আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই দোয়াগুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ সময় দোয়া কবুলের সময় অর্থাৎ তাহাজ্বতের সময় যে সময় আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলে علا من مستغفر فاستغفر له কে আছো কোনাক করেছো আমি আল্লাহর কাছে তওবা করো আমি আল্লাহ তোমার সে গুনাহ কে মাফ করে দিব, কে কেমন আছো যে রিজিকের অভাবে আছো রিজিকের জন্য কষ্টে আছো তুমি আল্লাহর কাছে চাও আমি তোমার সেই রিজিকের ব্যবস্থা করে দেব, এমন কে আছো যে সম্পদ চাও আমি আল্লাহ তোমার সেই সম্পদের ব্যবস্থা করে দেব, এইভাবে যার যত চাওয়া আছে শুধু আল্লাহর কাছে চাইতে হবে আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া কবুল করে নিবেন যদিও আমরা অনেকে আছি এমন যে ফজরের নামাজটাও পড়ি না তাহলে জানব কিভাবে যে কোন সময় দোয়া করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এটি বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আল্লাহর কাছে চাইলে সবই পাওয়া যায়। যাইহোক যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলাম যে তাহাজ্জুতের নামাজের সময় দোয়া করলেও কবুল হবে না আমার এই ছোট্ট আর্টিকেলটার মধ্যে যতদূর আমি লিখছি এতটুকুতে বুঝে যাওয়ার দরকার যে তাহাজ্জুদ নামাজের সময় এর গুরুত্ব কত। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ও আল্লাহ তায়ালা সে দোয়া কবুল করবেন না এটাই আজকের আলোচ্য বিষয়। সে দুইটি পাপের মধ্যে প্রথম প্রাপ্তি হলো কারো সম্পদ অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করা। অন্যায় ভাবে কারো মাল আত্মসাৎ করলে আল্লাহ তা’আলা ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করবেন না বর্তমান সময়ে এমন অনেক বেশি দেখা যায় যে আমাদের যাদের যেকোনো কারণে একটু ক্ষমতা রয়েছে তারা নিম্ন স্তরের মানুষদের ওপর অত্যাচার করে থাকে তাদেরকে কষ্ট দিয়ে থাকি কিন্তু আমরা এই হাদিস জানিনা যে المسلم اخو المسلم অর্থ মুসলমান মুসলমানের ভাই। বর্তমানে আমাদের এমন অবস্থা যে মুসলিম ভাই কেন নিজের ভাইয়ের সাথেই সম্পর্ক ঠিক থাকে না আমরা তাদের প্রতি বিভিন্ন কারণে জুলুম ও নির্যাতন করে থাকি তাদেরকে কষ্ট দিয়ে থাকি এমনটি যদি কেউ করে থাকে যে কারো মাল অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করেছে তাকে কষ্ট দিয়েছে তাহলে সেই ব্যক্তি তাহাজ্জুদ নামাজের সময়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করে। তাহলেও সে ব্যক্তির দোয়া কবুল হবে না।

আরবিতে একটি কথা আছে حق الله وحق العباد অর্থাৎ আল্লাহর হক এবং বান্দার হক উভয়টি রয়েছে। আপনি যদি নামাজ না পড়েন তাহলে যে গুনাহটি হবে আল্লাহ তাআলা চাইলেই কিন্তু সেটা মাফ করে দিতে পারেন, আপনি রোজা রাখেন নাই আল্লাহ তাআলা চাইলে কিন্তু সেই গোনাহটা মাফ করে দিতে পারেন, কিন্তু যেটা বান্দার হক এটা আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করতেছেন। তাই আমরা সবাই সঠিকভাবে প্রত্যেকের হক আদায় করার চেষ্টা করব। দ্বিতীয় যে বাপ্পির কারণে আল্লাহ তা’আলা দোয়া কবুল করেননা সেটি হল:- যারা জেনাই লিপ্ত থাকে তাদের দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন না। আজকাল তো আমরা এই গুনাহটিকে একেবারেই ক্ষুদ্র চোখে দেখি আমরা কিছু মনেই করি না কিন্তু এটা যে কত বড় গুনাহ আমরা যদি জানতাম তাহলে হয়তো কখনোই এ গুনাহ করার কথা ভাবতামও না। ‌ একটি হাদিস রয়েছে যেটি হল زنا العين النظر অর্থ চোখের জেনা হল দেখা। এর থেকে বোঝা যায় আমরা যদি এরকম কিছু দেখেও ফেলি যেটা আমাদের দেখা উচিত না অথবা রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় যদি এমন কিছু চোখে পড়ে যেটা আমার না দেখা উচিত তাহলে অবশ্যই আমাদের চোখগুলোকে হেফাজত করব তাহলে চোখের জেনা থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারবো। এমনিভাবে আমার পুরো শরীর এবং মনকে এ বিষয়ে তাগিদ দিব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই কথাগুলোর উপরে আমল করার তৌফিক দেন। আমিন