আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। মানুষ দুনিয়াতে যে সকল কর্মগুলো করে থাকে ইসলামী পরিভাষায় সেগুলোকে আমল বলে। আর ভালো এবং শতকর্মকে ভালো আমল বলে বা নেক আমল বলে এবং অসৎ ও খারাপ কাজকে খারাপ আমল বা বদ আমল বলে। আর কোন আমলের গ্রহণযোগ্য তাকে কবুল বলা হয়। কিন্তু আমরা যেহেতু মানুষ তাই আমাদের মধ্যে দুই শ্রেণীর মানুষই পাওয়া যায় যেমন কিছু আমরা নেক আমল করি এবং কিছু আমরা আছি যারা বদ আমল করি আর কিছু এমনও আছে যারা নেক আমল বদ আমল দুটোই করি। তাই আল্লাহর কাছে আমাদের নেক আমল গুলো গ্রহণ হয় বা গ্রহণযোগ্যতা পায় আর বদ আমলগুলো গ্রহণ হয় না। কিন্তু কিছু মানুষ এমন আছে যারা শুধু আমল করে কিন্তু তাদের কিছু বদ আমলের কারণে তাদের সকল আমলেই কবুল হয় না। এমন ১৩ শ্রেণীর মানুষের কথা আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
এই শ্রেণীর মধ্যে সর্বপ্রথম যে শ্রেণী মানুষ রয়েছে তারা হল কুফর এবং শিরিকের মধ্যে যারা লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান আমাদের মধ্যে এটা নিয়ে কোন গুরুত্ব নেই এমনকি অনেকে তো জানিও না এই বিষয়গুলো কি। আমরা নিজেকে মুসলমান দাবী করি কিন্তু আমি জানিনা আমি বুঝিনা যে আমি কোন গুনাহটি করছি কোন শিরিকটি করে ফেলছি আসলে শিরকের গোনাহ্ এমন গুনাহ যেটি তওবা ছাড়া মাফ হয় না। আমার মধ্যে যদি শিরক থাকে কুফর থাকে তাহলে আমি যত ইবাদতই করি না কেন যত আমলই করি না কেন সকল ইবাদত সকল আমল বৃথা আমার কোন ইবাদত কোন আমলই কবুল হবে না। যতই আমি নিজেকে মুসলমান দাবী করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করি। অনেক তসবিহ তাহলিল পাঠ করি তবুও যতদিন না পর্যন্ত আমি শিরক এবং কুফর এগুলো ত্যাগ করতে পারছি ততদিন আমার সকল আমল কবুল হবে না তাই শিরিক থেকে আমরা সকলেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করব আল্লাহতালা আমাদেরকে তৌফিক দিন।
দ্বিতীয় যে শ্রেণীর মানুষের আমলগুলো কবুল হয় না তারা হলো যারা তাকদীর বা ভাগ্যকে বিশ্বাস করে না অস্বীকার করে। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে হয়তো আপনি কাউকে দেখেছেনও দেখবেন সে বলবে যে আমি ভাগ্যকে বিশ্বাস করি না যেটা হয় এমনি হয় এভাবেই একদিন সব শেষ হয়ে যাবে। আবার আপনি যখন তাকদীরের কথা তাদের সামনে বলবেন আপনি যখন ভাগ্যের কথা বলবেন আপনি যখন আল্লাহ তাআলার সকল নেয়ামত এবং শাস্তি পরকাল এসবের কথা তাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। যখন আপনি বলবেন আল্লাহ আদেশ করেছে তাই এটা হয়েছে বা আল্লাহ যেটা ফয়সালা করেছেন সেটা হয়েছে এ সকল কথা যখন আপনি তাদের সামনে বলবেন। তখন অনেক মানুষ এমন আছে যারা এমনভাবে কথা বলবে যে তারা এই তাকদীরকে ভাগ্যকে মানে না। এবং এটাও বলবে যে কিসের তাকদীর আমার ভাগ্য আমি নির্ধারণ করব আমার ভাগ্য আমাকেই নির্ধারণ করতে হবে। এ সকল কথা তারা বলবে। আপনি সুস্থ মস্তিষ্কে একবার ভেবে বলুন তো যদি সকল মানুষ তার নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করতে পারত তাহলে কি কেউ গরিব অসহায় বা অনেকের মনে যা চাই সেটা কি সে গ্রহণ করতে পারত না। আপনার-আমার মনের অনেক ইচ্ছা অনেক স্বপ্নই তো আছে যেগুলো আমরা পূরণ করতে পারি না বা আমরা যেমনটা চাই তেমনটা হয় না আসলে এটা সম্পূর্ণই ভাগ্যের উপর নির্ধারণ করে যার ভাগ্যে যতটুকু লেখা আছে যার ভাগ্যে যতটুকু নির্ধারণ করা আছে সে ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করতে পারবে উপভোগ করতে পারবে। তাই আমরা সকলেই তাকদিরের প্রতি ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস রাখব। কারণ যে তাকদিরের প্রতি ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস রাখে না সে আসলে ঈমানহারা এবং তার কোন আমলই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
এরপর এ তৃতীয় নাম্বারে যার সকল আমল কবুল হবে না সে হতভাগা হল عاكل والدين অর্থাৎ পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। মা বাবার নাফরমান। আসলে পৃথিবীতে মহান আল্লাহর পরে আমরা যাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দান করি তারা হলো আমাদের জন্মদাতা পিতা মাতা তাদের অবাধ্য হলে অবশ্যই এটা কোন দৃষ্টিকোণ থেকেই ভালো দেখায় না। এছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কয়েক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে যাদের নামাজ ও কোন আমলই কবুল হবে না তার মধ্যে একশ্রেণীর মানুষ হল পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান যারা পিতা-মাতার বাধ্য না পিতা মাতার নাফরমান। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে এই কথা বলেছেন যে এই সকল মানুষের কোন নামাজ কোন আমল ইত্যাদি কোন কিছুই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
চতুর্থ যে শ্রেণীর মানুষের আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হবে না তারা হলো ওই দানকারী যে দান করে খোটা দেয় তার ওই দানের আমলটা কবুল হয় না তার অন্য সকল আমল এটার সাথে সম্পৃক্ত না সেগুলো কবুল হতেই পারে যদি সেভাবে ওই আমলগুলোর শর্ত অনুযায়ী এসে করে থাকে কিন্তু এই খোটা দেওয়ার কারণে তার এই ধানের আমলটা ধানের শপটা সে পাবে না দানের আমলটা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। এখন তো আসলে যেভাবে দান করা দরকার আমরা সেভাবে দান করতেই পারি না আর কিছু শ্রেণির মানুষ আমাদের মধ্যে এমন রয়েছে যারা দান করেই বিভিন্নভাবে এনিয়েবি নিয়ে সে দানের খোটা দেয়। যদি কাউকে কোন কিছু আমরা দান করে থাকি তাহলে অন্য কারো সামনে তো এ নিয়ে বি নিয়ে যেভাবে হোক বা সরাসরি হোক সেটা তো বলি বাকি যাকে দান করেছি তাকেও বলি আমরা তাকেও কোন সময় ছাড় দেই না এভাবে বলি যে আমি তার জন্য এত করলাম এই করলাম সেই করলাম তাকে এভাবে সাহায্য করলাম দান করা উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু যখন আমি এটাকে শুধু সাহায্য বলি বা সাহায্যে রূপান্তরিত করি তখন আসলে এটি দান থাকে না। তাই আমরা দান করলে অবশ্যই গোপনে দান করব এবং এটা নিয়ে কোন রকম আলোচনা বা সবথেকে ভালো হয় এ দান সম্পর্কে প্রকাশ ই না করা আমি দান করবো আমি এবং আমার এক আল্লাহ এবং যাকে দান করছি সে এতোটুকুই যথেষ্ট তাহলে আমার আমল আমার অন্তরে যদি এই উদ্দেশ্যে থাকে যে আমি এক আল্লাহর জন্য দান করছি তাহলে অবশ্যই সে আমল কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
পঞ্চম যে সকল মানুষের আমল কবুল হয় না তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি যারা আমাদের নবীর শহর মদিনায় হারামে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে দাঙ্গা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সহীহ বুখারীতে বলেন এই মদিনা من احدث فيه حدثا এখানে যে ব্যক্তি দুর্ঘটনা ঘটাবে او او ومحدثا অথবা এই মদিনায় দুর্ঘটনা গ্রহণকারী কোন ব্যক্তিকে যে আশ্রয় দিবে গ্রহণ করবে। فعليه لعنه الله والملائكه والناس اجمعين ওই ব্যক্তির উপর আল্লাহর লানত ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানব কুলের লানত তাদের প্রতি বর্ষিত হয়। لا يقبل منه يوم القيامه صلاه وصرف ولا عدل কিয়ামতের দিন তার কোন আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। মূলকথা হল মদিনাতে যে ব্যক্তি ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তার কোন আমল আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না।
ষষ্ঠ যে শ্রেণীর মানুষের আমল আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না তারা হলো ওই আপন দুই ভাই যারা নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল ঝগড়া ফ্যাসাদের মধ্যে লিপ্ত হয়। আজকাল আমাদের সমাজে এটা অত্যন্ত বেশি দেখা যায়। অনেকে এমনও হয় যে আপন দুই ভাই একই মায়ের পেটের দুই ভাই কিন্তু সম্পর্কটা এমন যে তারা একে অপরের শত্রু এবং একে অপরকে চেনে না এরকমটাও হয়ে থাকে কিন্তু পৃথিবীতে বাবা-মার পরে সবচেয়ে কাছের যে মানুষগুলো থাকে তাই হলো নিজের ভাই বোন। তাই যদিও আমরা এ বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব সহকারে দেখি না বা এ বিষয়ে জানিনা যে এটি এত বড় একটি গোনাহ্। আমরা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমল করার চেষ্টা করব অন্যথায় আমি যত নামাজ পড়ি না কেন যতই ইবাদত করি না কেন আমার সকল আমলই বৃথা কোন কিছুই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন!
সপ্তম নাম্বারে ওই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যিনি ইমাম এবং ঐরকম ইমাম যে ইমামতি করে কিন্তু মানুষ তার ওপর যুক্তিসম্মত কারণে অসন্তুষ্ট। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে দেখা যায় যে কিছু মানুষ আছে যারা ইমাম দেরকে পছন্দ করে বা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট কিন্তু কিছু আছে যারা এমনি কোন কারণ ছাড়াই অসন্তুষ্ট এদের কথা না যারা যুক্তিসম্মত কারণে যেটা অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ এমন কারণেই অসন্তুষ্ট তাহলে ওই ইমামের সকল আমল আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন না। এখানে হাদিসের ভাষায় দুইটা কথা আছে ইমাম বলতে এখানে দুই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে মসজিদের নামাজ পড়ায় ইমামতি করে নেতৃত্ব দেয়। দ্বিতীয়তঃ ওই ব্যক্তি যে কিনা কোন সমাজের শাসক বা নেতা রাষ্ট্রপ্রধান তার কথা বলা হয়েছে। এই দুই শ্রেণীর মানুষের প্রতি যদি সমাজের লোকজন যুক্তিসম্মত কারণে অসন্তুষ্ট হয় তাহলে তাদের নামাজ এবং সকল আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হবে না।
অষ্টম নাম্বারে ওই অভাগীর কথা বলা হয়েছে যার কোন আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না সে হলো ওই নারী যে রাত্রি অতিবাহিত করে ফেলে তার স্বামীর যৌক্তিক কারণে অসন্তুষ্টির অবস্থায়। অর্থাৎ কোন স্ত্রীর পড়ে তার স্বামী যদি কোন যৌক্তিক কারণে অসন্তুষ্ট হয় কোন অযৌক্তিক কারণে নয় বা পারিবারিক যেকোনো কারণ যেটা যুক্তিসম্মত নয় এমন কারণে যদি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে নয় বরং যৌক্তিক কোনো কারণ যে কারণে অসন্তুষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক তাহলে এমত অবস্থায় যদি রাত্রি যাপন করে ফেলে তাহলে ওই স্ত্রীর নামাজ এবং কোন আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।
নবম ওই ব্যক্তি যার কোন আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবে না সে হলো ওই ক্রীতদাস যে তার মালিকের অনুমতি ছাড়াই পলায়ন করে ভেগে যায় এই ব্যক্তির সম্পর্কে হাদিসের মধ্যে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন حتى يرجع সে ব্যক্তি যতক্ষণ না পর্যন্ত তার মালিকের নিকট ফেরত আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার কোন নামাজ কোন আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
দশম নম্বর ওই নারী যার আমল আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হবে না সে হলো যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং সেটা ব্যবহার করে সে ঘোরাফেরা করে বাইরে যায়। আজকাল আমাদের সমাজে এটা অত্যান্ত বেশি দেখা যায় এবং এটাকে আমরা গুনাহ মনেই করি না অথচ হাদিসের মধ্যে এরকমও কথা আছে যে ওই নারী যে সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে গেল এবং সে সুগন্ধ যত বেগানা পুরুষের না খেয়ে যাবে যতজন তার এই সুগন্ধে ঘ্রাণ গ্রহণ করবে সকলের সাথে তার যেনা করার গুনাহ তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হবে। তাই আমাদের যাদের মা-বোনেরা এরকম সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং চতুর্দিকে মোহিত করে ফেলে আমরা যারা অভিভাবক আছি নিজেদের মা বোন ও মেয়ে স্ত্রীদের এ বিষয়ে সতর্ক করব এবং এই বড় গুনাহ থেকে সকলকে হেফাজত করার চেষ্টা করব আল্লাহতালা আমাদের তৌফিক দিন।
এগো নাম্বার ওই হতভাগা ব্যক্তি যার আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হবে না সে হলো ওই দানকারী যে দান করে কিন্তু তার দানের সম্পদটা হালাল না বরং হারাম হারাম সম্পদ দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা ইত্যাদি যত জায়গাতেই হোক আর যতই দান হোক আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না। বর্তমান এ জিনিসটা আমরা লক্ষ্য করি না তবে যারা আমরা হালাল উপার্জন করি তাদের তো কোন সমস্যা নেই কিন্তু যারা হালাল উপার্জন করিনা বা আমাদের যাদের সম্পদ হারাম তারা যদি মনে করে থাকি যে এই দান করার কারণে আমার সম্পদ হালাল হয়ে যাবে তাহলে আমি ভুলের মধ্যে রয়েছি হারাম সম্পদ থেকে যদি আমি দান করি তাহলে সেই দান সেই আমলটা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ولا صدقه من قلول আপনি অবৈধ ভাবে উপার্জন করেছেন সেই অর্থ যদি আপনি দান করেন তাহলে সেই দান আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।
১২ নাম্বার ওই ব্যক্তি যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করে কিন্তু তার পবিত্রতার ঠিক নাই। আমাদের মধ্যে আমরা অনেকে আছি পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত অজ্ঞ আর এ বিষয়টা নিয়ে আমরা জানার আগ্রহ প্রকাশ করি না। অনেকে তো এমন আছি যারা ওযু টাও ঠিক করে করতে পারিনা আবার কিছু মানুষ এমন আছি যারা শীতের সময় ওযু করি নামাজের জন্য কিন্তু অজুটা এত দ্রুত করি আর এমন ভাবে করি যে কিছু অংশ শুকনাই থেকে যায় যার কারণে আমাদের অজুটা সম্পন্ন হয় না। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূল (সা) বলেছেন,‘বেহেশতের চাবি হচ্ছে নামাজ, আর নামাজের চাবি হলো অজু।’(মুসনাদে আহমাদ-৩:৩৪০পৃ.)। তাই আমরা সকলেই নামাজের পূর্বে ভালোভাবে অজু করার চেষ্টা করব আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দিন।
১৩ নাম্বার এবং সর্বশেষ ওই ওই নারীর কথা বলা হয়েছে যে নামাজ আদায় করে কিন্তু তার মাথায় ওড়না নাই যেভাবে ওড়না দেওয়া দরকার অর্থাৎ নামাজের জন্য যে পরিমাণ সতর ঢাকা দরকার সে পরিমাণ সতর যদি কারো ঢাকা না থাকে তাহলে সে নামাজ কবুল হবে না। তিরমিজীর হাদিসের মধ্যে এসেছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন لا تقبل الصلاه حائض الا بالخمار একজন প্রাপ্তবয়স্কা নারী সে ওড়না ছাড়া সেমার ছাড়া অর্থাৎ যে পরিমাণ সতর ঢাকা দরকার সে পরিমাণ সতর ঢাকা ছাড়া যদি নামাজ পড়ে তাহলে সে নামাজ হবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল আমল ও ইবাদত যেগুলো আমরা অত্যন্ত কষ্ট করে করে থাকি সেগুলো সঠিকভাবে সঠিক পদ্ধতিতে করার তৌফিক দান করুন। আমীন!