যাকাত ফরজ হওয়ার পাঁচটি শর্ত

আমল

ইসলামের মৌলিক ৫ স্তম্ভের মধ্যে যাকাত এটিও একটি স্তম্ভ আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কে যেভাবে ফরজ মনে করি এবং যতটা গুরুত্ব দিই ঠিক ততটাই গুরুত্ব যাকাতেরও আছে পার্থক্য শুধু এতোটুকুই যে যাকাত দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে যারা যাকাত দিতে পারেন অর্থাৎ যাদের সামর্থ্য আছে যারা সেই নিয়ম গুলোর মধ্যে পড়ে তারা একমাত্র যাকাত দেয় বা তাদের উপরেই যাকাত ফরজ কিন্তু নামাজ সকলের জন্য ফরজ। যাকাত কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই দিতে পারে এজন্য আমরা বেশিরভাগ মানুষই এটা নিয়ে গুরুত্ব দিনা তবে আমাদের অজান্তেই এমনও হতে পারে যে আমি সেই যাকাতের ফরজ বিধান পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি এখন আমি যদি এ বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে আদায় করি তাহলে আমার সেই যাকাত এর ফরজটা আদায় হবে আর যদি আমি অবহেলায় এটিকে এড়িয়ে চলি তাহলে সেজন্য আমরা গুনাহগার হবো আর তাই আমাদের জানা দরকার যে যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কি কি যাকাত ফরজ হওয়ার পাঁচটি শর্ত সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি ওমা তৌফিক ইল্লা বিল্লাহ!

যাকাত ফরজ হওয়ার পাঁচটি শর্ত:
১. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া অর্থ হলো আপনার সামান্য কিছু সম্পদ হয়েছে আর সেজন্য আপনাকে যাকাত দিতে হবে ইসলাম এমনটা বলে না যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যে নিসাব যে শর্ত এটি একটি মাত্রা আছে পরিমাণ আছে যেটা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপনার উপর যাকাত ফরজ নয়। এবং এটা যে যে কোন কিছু নিয়েই একটি পরিমাপ হবে সেটা না স্বর্ণ এবং রুপো এর দ্বারা এ মাপটি নির্ধারণ করা হয় কেননা পূর্বে আমাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বা যাকাত ফরজ হওয়ার সময় স্বর্ণ এবং রুপো এর দ্বারাই লেনদেন হত। তখন যে মুদ্রা ছিল সেটাকে বলা হতো দিনার এবং দিরহাম। প্রশ্ন হল ঠিক কতটুকু স্বর্ণ বা রুপো থাকলে যাকাত ফরজ হয়। সেটি হচ্ছে সাড়ে ৭ তোলার স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপো। বর্তমান সময়ে অনেকে গ্রাম দিয়ে এগুলোর পরিমাপ করেন তাহলে গ্রাম দিয়ে যদি বলা যায় তাহলে হবে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ বা ৫৯৫ গ্রাম রূপো এই পরিমাণ সম্পদ যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে আপনার জন্য যাকাত ফরজ হওয়ার একটি শর্ত আপনার মধ্যে পাওয়া গেছে।

২.এক বছর স্থায়ী হওয়া।
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য দ্বিতীয় শর্ত হলো সম্পদ এক বছর স্থায়ী হওয়া অর্থাৎ যে সম্পদ টির যাকাত দিতে হবে সেটি অবশ্যই আপনার কাছে এক বছর স্থায়ী হতে হবে সহজে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দিয়ে বলতেছি কথার কথা আজ বিষে রমাজান আমি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মালিক হয়েছি তাহলে আজ থেকে নিয়ে আগামী বছর ২০ শে রমজান যদি দেখি আমার কাছে এই সম্পত্তি অতিরিক্তই পড়ে আছে এবং আরো কিছু সম্পদ আমার মালিকানাধীন হয়েছে তাহলে এই স্বর্ণগুলো আমার কাছে এক বছর স্থায়ী হওয়ার কারণে এই সম্পদ গুলো যাকাত দেওয়ার পাঁচটি শর্তের মধ্যে একটি শর্ত পূর্ণ করেছে অর্থাৎ আমাকে যাকাত দিতে হবে।

৩. সম্পূর্ণ মালিকানাধীন হওয়া।
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য তৃতীয় শর্ত হলো যে সম্পদের উপর যাকাত আসবে সেটার পূর্ণ মালিকানাধীন হওয়া অর্থাৎ যে সম্পদটির আমি যাকাত দিব সে সম্পর্কে মালিক একমাত্র আমিই হবো যদি এমন হয় যে এক লাখ টাকার উপরে যাকাত আসতেছে সে এক লাখ টাকা আমার কাছে আছে কিন্তু এই এক লাখ টাকার মালিক আমি নয় বরং আমার কাছে কেউ সেটা আমানত রেখে গেছে তাহলে এটা থেকে যাকাত আসবে না যাকাত ওই সম্পদ থেকে আসবে যেটি আমার নিজস্ব আশা করি তৃতীয় নম্বর শর্ত বুঝে এসেছে।

৪. অতিরিক্ত সম্পদ হওয়া।
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য চার নম্বর শর্তটি হচ্ছে অতিরিক্ত সম্পদ হওয়া অর্থাৎ এমন নয় যে আপনার কাছে কিছু টাকা আছে আর সেটাকে ইসলাম আপনাকে বলতেছে যে এটা কি আপনি যাকাত দেন এমনটা না এখানে অতিরিক্ত বলতে বোঝানো হয়েছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংসার খরচ আপনার ব্যবসার খরচ আপনার চিকিৎসার খরচ আপনার ছেলে মেয়ের শিক্ষার খরচ এরকম যদি হয় আপনি প্রত্যেক বছর বাৎসরিকভাবে দুই একবার পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান তাহলে সেটার খরচ এভাবে আপনার প্রয়োজনীয় যত খরচ আছে সকল খরচ বাদ দিয়ে এরপরও আপনার কাছে দেখা যাচ্ছে যে কিছু সম্পদ থেকে যায় অতিরিক্ত যেটি আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স হোক বা আপনার ক্যাশ হোক এটা আপনার কাছে অতিরিক্ত থাকে তাহলে এইটার উপরে যাকাত ফরজ।

৫. ঋণ না থাকা।
ফরজ হওয়ার পাঁচটি শর্তের মধ্যে সর্বশেষ শর্ত হলো ঋণ না থাকা এখন এঋণ টি কেমন ঋণ কথার কথা আপনার কাছে ৫ লক্ষ টাকা আছে কিন্তু আপনার ঋণ ও আছে ৫ লক্ষ টাকা তাহলে আপনি ঋণ দিবেন যাকাত আপনাকে দেওয়া লাগবে না কিন্তু ঋণের আবার প্রকারভেদ আছে ঋণ তিন ধরনের: একটি ঋণ আছে এমন যেটি একবারেই পরিশোধ করতে হয় এমন আছে না যে আমার ঋণ একজনের কাছ থেকে আমি নিলাম সেটি আমাকে এক বছর পরেই তাকে পরিশোধ করতে হবে তাহলে আজকে যদি আমি যাকাতের হিসাব করি আর ওই টাকার হিসাবটা যদি এর মধ্যে পড়ে তাহলে সেটার উপরে যাকাত আসবে না। ঋণের দ্বিতীয় ধরনটি হচ্ছে কিছু ঋণ এমন আছে যেটি ইন্সটলমেন্টে দেওয়া লাগে অর্থাৎ কিস্তিতে দেওয়া লাগে তাহলে সেক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ বারো মাসের যেই কিস্তি আসবে সেই টাকাটুকু যাকাত ব্যতীত কর্তন করতে পারব এর বাইরে যে টাকা থাকবে সেটার উপরে আমাকে যাকাত দিতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে আমাদের দেশে এমনও কিছু মানুষ আছে যারা ঋণ খেলাপি লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয় অথচ পরিশোধ করে না বা বিভিন্ন জায়গায় ইনভেস্ট করে রাখেন তাহলে সে ক্ষেত্রে কি হবে, সে ক্ষেত্রে যদি সে ঋণ খেলাপি হয় তাহলে অবশ্যই তাকে যাকাত দিতে হবে। ঋণের তৃতীয় ধরণটি হচ্ছে লাক্সজারী আইটেম হওয়া অর্থাৎ লাক্সারি কোন পূর্ণ বিলাসবহুল কোন পণ্য আমি যদি কিনি তাহলে সেটার উপরে ঋণ থাকলে আমার যাকাত থেকে সেটা কর্তন হবে না কথার কথা আজকে যদি আমি একটা ল্যাম্বরগিনি ঋণ করে কিনি তাহলে সেটার জন্য আমাকে রিনি বলা যাবে না এবং এই হিসেবে আমি যাকাত ফরজ হয়নি এমন ব্যক্তির মধ্যে গণিত হবো না।
এ সকল শর্তগুলো যদি আমাদের মধ্যে পাওয়া যায় তাহলে আমাদের উপর যাকাত ফরজ হয়ে যাবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন!