মুহাররম মাস মহরম মাস হল হিজরি সন তথা আরবি বছরের প্রথম মাসের নাম। এবং এই মাস হিজরি সনের মধ্যে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ মাস। মহরম শব্দের অর্থ হল সম্মানিত আমরা এভাবে বলতে পারি যে নামেই যার পরিচয় রয়েছে সেটি হলো মহররম মাস। এই মাসটিকে আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন সম্মান দিয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যই আমাদের এই মাসের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এই মাসটিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাহরুল্লাহ) তথা আল্লাহর মাস বলেছেন। এই পৃথিবীতে সবকিছুই আল্লাহ তালার বিশেষভাবে এটিকে আল্লাহর মাস বলার কারণ হলো এটার মর্যাদা কে গুণকে বোঝানো। প্রিয় নবী এই মহররমে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার কথা বলেছেন তথা রমজানের পরে এই মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতে আল্লাহর রাসূল বলেছেন। এছাড়াও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা সম্পর্কে বলেন কেউ যদি এই রোজা করে রাখে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাঁর পূর্ণ এক বছরের ছোটখাটো সব গুনাহ গুলো মাফ করে দিবেন।
এছাড়াও আশুরা রোজার আরেকটি বিশেষ ফজিলতের কারণ হলো। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এমনকি হিজরতের আগে কুরাইশরা এই আশুরা রোজা রাখত। বছরে একটা রোজায় ছিল এ রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে সেটি হল আশুরা এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এই রোজা রাখতেন। মদিনায় আসার পরে তিনি দেখেছেন ইহুদীদেরকে যে তারা আশুরার রোজা রাখে এবং তাদের রোজা রাখা দেখে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন কেন তোমরা এই দিনে রোজা রাখো…? তারা বললেন এই দিনে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহতায়ালা বিজয় দিয়েছেন এজন্য আমরা তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করে রোজা রাখি, আশুরার রোজা।
এটা শোনার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। আমরাও মুসা আলাই সাল্লাম এর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কারণে আরো বেশি শুকরিয়া আদায় করার আমাদের হক রয়েছে, আমরা তার প্রকৃত অনুসারী আমরাও আসলে রোজা রাখব তবে তাদের থেকে আমাদের রোজাকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তারা আশুরা রোজা রাখে একটা আমরা রাখবো দুইটা তাহলে আমরা সেই দিন এবং তার আগের দিন অথবা সেই দিন এবং তার পরের দিন এইভাবে দুইটি রোজা রাখব তবে উল্লেখিত দিন এবং তার আগের দিন রাখাটা অধিকতর উত্তম। এর কারণ হলো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বছর ওফাত গ্রহণ করেন সে বছর বলেছিলেন আমি যদি আগামী বছর মহরমের রোজা পাই তাহলে নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখব। এজন্য আমরা আসলে রোজা দুইটা করে রাখবো। দুইটা রাখা হলো সুন্নত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ কথাগুলোর উপরে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন!