মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব আর এই সৃষ্টির সেরা জীবকে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত ও তার বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য এবং তার সকল আদেশ নিষেধ বিধি-বিধান মেনে চলার জন্য। এরপরও শয়তান যেহেতু সর্বদাই মানুষের ক্ষতি করার জন্য মানুষকে গুনাহে লিপ্ত করার জন্য তার পেছনে লেগেই থাকে এই কারণে মানুষ শত চেষ্টা করলেও কিছু না কিছু ভুল করেই ফেলে। তাই আল্লাহর কাছে আমাদের ক্ষমা চাইতে হবে ইস্তেগফার পড়তে হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ইস্তেগফারের এমন বিশেষ কয়েকটি লাভ আছে যা আপনি জানার পরে অবশ্যই সর্বদাই চেষ্টা করবেন এটির উপরে আমল করার। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন সর্বদাই বান্দা তার জিহ্বা কে আল্লাহ তায়ালার জিকিরে ভিজিয়ে রাখবে।
আরব বিশ্বে আপনি দেখতে পাবেন রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে তারা মাসনুন দোয়া গুলো জিকিরগুলো লিখে রাখে উদ্দেশ্য একটাই এটা দেখে মানুষের মনের মধ্যে নাড়া দিবে এবং মানুষ সেটা পড়বে। যারা যারা সর্বদা ইস্তেগফার পড়ে তাদের পাঁচটি লাভ। তার মধ্যে প্রথমটি হলো যে বেশি বেশি ইস্তেগফার করে তাকে সর্ব অবস্থায় যেকোন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আল্লাহ। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় যে কোনভাবেই বিপদে পড়ি বা পড়তে পারি সে সময় আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে হেফাজত করবেন যদি আমরা বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ে থাকি। ইস্তেগফার পড়ার দ্বিতীয় লাভ টি হল এই যে, বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়লে তার জীবন থেকে আল্লাহ তা’আলা সকল দুশ্চিন্তা সকল টেনশন দূর করে দিবেন। আজ আমরা ধনী-গরিব যুবক-বৃদ্ধ ছেলে-মেয়ে সকলেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় টেনশন করি।
ইস্তেগফার পড়লে আল্লাহ তাআলা এ সকল দুশ্চিন্তা টেনশন থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিবেন। তৃতীয় লাভটি হলো এই যে আপনি যদি বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়েন তাহলে আল্লাহ তা’আলা আপনার রিজিকের ব্যবস্থা এমন জায়গা থেকে করবেন যে আপনি ভাবতেও পারবেন না। আমরা অনেকেই এই টেনশনটা খুব বেশি করে থাকি যে রিজিকের ব্যবস্থা কেমনে হবে কিন্তু দেখেন আল্লাহতায়ালা বলে দিয়েছেন যে ইস্তেগফার পড়ার কারণে আল্লাহ তাআলা এটার ব্যবস্থা করে দিবেন। ইস্তেগফার পড়ার চতুর্থ নাম্বার ফায়দা এটা যে আপনি যদি বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়েন তাহলে আল্লাহ তায়ালার কোন আজাব আপনার উপর পঠিত হবে না। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার কোন আযাবে আপনি গ্রেফতার হবেন না। ইস্তেগফার পড়ার পঞ্চম নাম্বার এবং সবথেকে বড় ফায়দা এই যে আপনি যদি বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়েন তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে মস্তাজাবুদ দাওয়া বানিয়ে দিবেন। মুস্তাজাবুদ্ধাওয়া বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার সর্বদায় সকল দোয়া কবুল হয়। অর্থাৎ তিনি শুধু দোয়া করতে দেরি কবুল হতে দেরি নয়। আমরা সকলেই বেশি বেশি ইস্তেগফার করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। অমা তৌফিক ইল্লা বিল্লাহ!