আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ এবং আল্লাহ তাআলা জিন এবং মানুষকে একমাত্র তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এবং মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিপালক তিনি এক এবং অদ্বিতীয় আমাদের সকল চাওয়া পাওয়া তার নিকট হইতেই আসে, আর ঠিক এই কারণেই আমরা এক আল্লাহর আনুগত্য করব এবং আমাদের যত প্রয়োজন আছে যত চাওয়া পাওয়া আছে সবকিছু আল্লাহর কাছে তুলে ধরব এটাই নিয়ম। আমরা বিভিন্ন সময় আমাদের বিভিন্ন চাওয়া পাওয়া আল্লাহর নিকট তুলে ধরি অনেক সময় এমন হয় যে আমি যা চাইতেছি সেটা হচ্ছে না এটার তিনটি কারণ হতে পারে প্রথম আমার চাওয়ার মধ্যে কোন ত্রুটি রয়েছে। দ্বিতীয় হয়তো আমি এখন যা চাইতেছি সেটা না পাওয়ার মধ্যেই আমার সফলতা রয়েছে আমার ভালো নিহিত রয়েছে। তৃতীয়তঃ এটা হতে পারে যে আমি যা চেয়েছি আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেছেন এবং এর পরিবর্তে আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপনাকে দুনিয়াতে এর ফল না দিয়ে কেয়ামতে দিবে বা পরপারে দিবে।
এরপরও কিছু সময় এমন রয়েছে যে সময় আল্লাহ তা’আলা তাঁর নিকটে কিছু চাইলে ফিরিয়ে দেন না। যদিও অনেকে অনেক সময়ই এটা ভেবে থাকে যে আল্লাহ তাআলা কেন তাঁর এই চাওয়াটা পূরণ করছে না কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে উপরে উল্লেখিত তিনটি কারণের কোন একটি কারণ তার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে এ কারণেই সে হয়তো বুঝতেই পারে নাই কিন্তু আল্লাহ তাআলা সেটার উপরে ফায়সালা করে ফেলেছেন। আর উপরে উল্লেখিত এই তিনটি বিষয়ের কোন একটি যখনই হোক হবে সেজন্য আমাদের দোয়াটা কবুল হওয়া জরুরী এজন্য আমরা জেনে নিই যে কোন সময় দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময় যার বিষয়ে এখন উল্লেখ করার চেষ্টা করব। প্রথম সময়টি হল জোহরের সময়।
মোস্তদে আহমদ এর এক হাদিসে বর্ণিত আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের ফরজ সালাতের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত সালাত সব সময়ই আদায় করতেন। একদিন কোন কোন সাহাবী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূল আল্লাহ আপনাকে দেখি এই সালাতটা এই যোহরের চার রাকাত সুন্নত সালাতটা সব সময় আদায় করেন কখনোই ছেড়ে দেন না এর কারণ কি…..? উত্তরে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন জেনে রাখো যখন সূর্য মধ্য আকাশ থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে তখন মহান আল্লাহ তায়ালা আসমানের সকল দরজা খুলে দেন এবং এটা যোহরের সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত। আর সেজন্যই আমি সব সময় দোয়া করি যাতে করে আল্লাহর কাছে এই সময়ের মধ্যে আমার কোন আমল পৌঁছায়। এবং আমার একটি দোয়া হলেও যেন এই সময়ের মধ্যে আল্লাহর কাছে যায়। আমরা হয়তো অনেকেই জোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করি কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মানুষই এই সময়ের গুরুত্বের বিষয়ে জানতাম না তাই এখন থেকে আমরা যেহেতু বুঝতে পারলাম যে দোয়া কবুলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে জোহরের সময় ও একটি এজন্য এ সময়ের গুরুত্ব অনুযায়ী আমরা আমল করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয় যে সময়টি আল্লাহ তাআলা আসমানে সকল দরজা খুলে দেন সেই সময় টি হল প্রত্যেক নামাজের আযানের পরের কিছু সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে يا نودي بالصلاه যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় আজান দেওয়া হয় فتحت ابواب السماء واستجب الدعاء তখন আসমানের দোয়ার সমূহ খুলে দেওয়া হয় বান্দাদের দোয়া কবুল করা হয়। দোয়ার নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি এখানে বর্ণিত নেই তবে মনের যে কোন চাওয়া আল্লাহ তাআলার কাছে পেশ করার জন্য এটি একটি মহামূল্যবান সময়।
এবং তৃতীয় যে সময়টি এই মহামূল্যবান সময়ের মধ্যে ধর্তব্য হয়ে থাকে সেটি হল এক সালাতের পরে অপর সালাতের জন্য যখন মানুষ অপেক্ষা করে এই সময়টুকু এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় সুনানে ইবনে মাজাহ এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ابشروا هذا ربكم তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো তোমাদের রব قد فتح ابواب بالسماء আসমানের দর সমূহের মধ্যে একটি দরজা তিনি খুলে দিয়েছেন এবং يباهي بكم الملائكه তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে তিনি গর্ব করছেন এভাবে বলছেন যে দেখো আমার নির্ধারিত ফরজ সালাত আদায় করার পরে অন্য ফরজ সালাত আদায়ের জন্য তারা অপেক্ষা করছে এর থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে এক সালাত আদায়ের পরে অন্য সালাতের জন্য যখন মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে আল্লাহ তা’আলা সেই সময় আসমানের দরজা খুলে দেন এবং এটিও দোয়া কবুলের একটি মোক্ষম সময়।
চতুর্থ যে সময়টি এই সোনালী সময়ের মধ্যে ধর্তব্য হয়ে থাকে সেটি হল ভোররাত বা প্রত্যেক রাতের শেষ প্রহর এটিও মূল্যবান সময়ের মধ্যে একটি আল্লাহর কাছে আমার সকল চাওয়া পাওয়া আমার প্রয়োজন আমার সুখ আমার শান্তি সকল কিছু এ সময় আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যেতে পারে এ সময় আল্লাহ তায়ালা আসমানের দর সমূহকে খুলে দেন এবং ঘোষণা দিতে থাকেন আছ কি এমন কেউ যে রিজিকের সংকটে ভুগতেছ আমার কাছে বল আমি তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করে দিব। আছো কি কেউ এমন যে ঋণগ্রস্ত আমার কাছে বল আমি তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিব। আছো কি কেউ এমন যে বিভিন্ন রকম অসুস্থতায় ভুগতেছ আমার কাছে বল আমি তোমাকে সুস্থ করে দেবো। এভাবে বলতে থাকেন কিন্তু বর্তমান সময়ে বাস্তবতাটা এমন আমরা পুরো রাত্রি জাগরণ করে এই সময়টাতে গিয়ে ম্যাক্সিমাম মানুষ ঘুমিয়ে থাকে এরপরে ফজরের নামাজটাও ত্যাগ করেনি তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের জান্নাতের ফায়সালা করব কিভাবে আমাদের চাওয়া পাওয়া আল্লাহর দরবার থেকে পূরণ করব তাই আমরা এখন থেকে অবশ্যই চেষ্টা করব এই মহামূল্যবান আল্লাহর এবাদত করার জন্য যাতে করে আমি এবং আমার আত্মীয়-স্বজন সকলেই জান্নাত হাসিল করতে পারি। আমিন! তবে দুই শ্রেণীর ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তায়ালা এই সময় কবুল করেন না প্রথম ওই মহিলা যিনি পেশাদার ব্যভিচারিণী তার দোয়া আল্লাহ তায়ালা এই সময় কবুল করেন না। এবং দ্বিতীয়ত হল অবশ্যইদের কাছে চাঁদাবাজি করে অর্থ আত্মসাৎ করে এই ব্যক্তি এই দুই ব্যক্তি ছাড়া সকলের দোয়া আল্লাহ তায়ালা এই সময় কবুল করে থাকেন। কিন্তু যদি এই দুই ধরনের ব্যক্তি আবার তওবা করেন তাহলে এই তওবা করার পর থেকে নিয়ে তাদের দোয়াও আল্লাহ তা’আলা কবুল করবেন।
এরপরে পঞ্চম নাম্বার মহা গুরুত্বপূর্ণ যে সময়টি রয়েছে সেটি হল একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া যেটির মধ্যে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা এবং আল্লাহ তাআলার প্রশংসা না করা হয়ে থাকে এই বিশেষ ভাষায় যখন আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা হয় বা আল্লাহ তাআলার জিকির করা হয় তখন আল্লাহ তা’আলা আসমানের দোয়ার সমূহ খুলে দিয়ে থাকেন যেটি সহিঃ মুসলিমের বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন পেছন থেকে কেউ একজন একটি দোয়া পাঠ করলেন নামাজের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন যে এই দোয়া কে পাঠ করেছে তখন একজন ব্যক্তি বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি পাঠ করেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি এই দোয়া পাঠের পর আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে আসমানের সকল দোয়ার সমূহ কে খুলে দেওয়া হয়েছে দোয়াটি হল الله اكبر كبيرا والحمد لله كثيرا وسبحان الله بكره واصيله (আল্লাহু আকবার কাবিরা আলহামদুলিল্লাহি কাসিরা সুবহানাল্লাহি ওয়া বক্রতাওয়াসিলা) এই দোয়াটি যেকোনো সময় পাঠ করা যায় তাই আমরা যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থাতে আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি পড়ে আমাদের আমলকে আরো বৃদ্ধি করতে পারি এবং আমাদের সকল প্রয়োজনীয়তা আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে পারি আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই সকল বিষয়ের উপরে অমল করার তৌফিক দিন। আমিন!