নফল রোযার নিয়ম

আমল

মানুষের জীবনে মানুষ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে সেটা হতে পারে চলাফেরার দিক দিয়ে হতে পারে আচার ব্যবহারের দিক দিয়ে আবার এমনও হতে পারে যে শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে আমরা আমাদের জীবনে যতরকম মানুষ দেখি না কেন যতটাই পার্থক্য আমাদের কাছে মনে হোক না কেন কিন্তু বাস্তবিক অর্থে একদিক থেকে চিন্তা করলে আমরা সকলে প্রায় একই হলো আমরা সকলেই মানুষ আসলে যে কালো সেও মানুষ যে ফর্সা সেও মানুষ যে বড় সেও মানুষ যে ছোট সেও মানুষ। তাই আমরা যে যেমনই হয় না কেন সকলের আত্মার শান্তি মনের শান্তির একমাত্র পথ সেটা হলো আল্লাহর ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য। যদি আমরা আল্লাহর ইবাদত করতে পারি তাহলে সর্বদিক দিয়ে আমরা সফল হবো এবং অত্যন্ত সুখের সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন অতিবাহিত করতে পারব। আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের মধ্যে এক জাতীয় ইবাদত আছে যেটা আমাদের জন্য ফরজ বা আবশ্যক করতেই হবে। আরেক ধরনের ইবাদত রয়েছে যেটাকে নফল বলা হয় যেটা বান্দা তার ইচ্ছামত আদায় করতে পারে তবে পরিপূর্ণতার জন্য দুইটা বিষয় ই অনেক জরুরী। ‌

কেননা ফরজ ও নফল মিলিত হয়ে আমাদের জন্য সফলতা বয়ে আনে। যখন আমরা আল্লাহর এই ইবাদতগুলো করি তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জীবনকে একটা গাইডলাইন দেওয়া হয় পথপ্রদর্শন করা হয় যার বদৌলতে আমরা সুখী জীবন ভোগ করতে পারি। আমরা অনেকেই ফরজ ইবাদত গুলো কিছুটা গুরুত্ব দিয়ে করলেও নফল ইবাদত একেবারেই ছেড়ে দিন তবে নফল ইবাদতের গুরুত্বও অধিক। আর নফল ই বন্ধুতের মধ্যে সর্ব উত্তম ইবাদত সিয়াম বা রোজা। আমরা রমজানে যে রোজা আদায় করে থাকি সেটাকে ফরজ রোজা বলা হয় তবে শুধু রমজানেই নয় বরং রমজান ছাড়াও পূর্ণ বছর রোজা আদায় করা যায়। আর এই নফল রোজার যে এত পরিমাণ গুরুত্ব সেটা বুঝতে হলে একটি ঘটনা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। হযরত নবী আলাইহিস সালাম এর যুগে একদা হযরত আবু ওমামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সামনে আর্জি পেশ করেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনি আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন তুমি রোজা রাখো হযরত উমামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আবারো জিজ্ঞাসা করলেন উত্তরে নবী আলাইহিস সালাম বললেন তুমি রোজা রাখো। রোজার কোন সমকক্ষ নেই বিকল্প নেই। এরপর রক্ত ব্যক্তি প্রিয় নবীর কাছে বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আমাকে আরেকটি আমল বলে দিন সে সময় নবী আলাইহিস সালাম তিনি আবারও বললেন তুমি রোজা রাখো রোজার কোন বিকল্প নেই সমকক্ষ নেই। এখানে আমাদের প্রিয় নবী রোজার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বারবার এই আদেশটি করেছেন এরপর থেকে হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তিনি এত রোজা রাখতেন যে তার বাসায় মেহমান না আসলে রান্না হতো না। এটা নফল রোজা হাজারো ফজিলত এর মধ্যে হাজারো গুণের মধ্যে মাত্র একটি। অন্য হাদিসের মধ্যে এসেছে الصيام جنه অর্থাৎ রোজা ঢালস্বরূপ ভীজ স্বরূপ। সিয়াম ঢাল ফরজ নফল সকল বিষয়ে এটা আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে। এবং দান গুনাহ গুলোকে ক্ষমা করে দেয়। আর এই কারণেই সিয়াম এর ফজিলত অনেক বর্ণনা করা হয়েছে কারণ সর্ব ক্ষেত্রে সিয়াম এর বিকল্প নেই। বিশেষ করে কেউ যদি চায় সে আল্লাহর প্রিয় হবে অন্তরটাকে আল্লাহমুখী করবে তাহলে সিয়ামের কোন বিকল্প নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্নভাবে সিয়াম পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

যুবকদের জন্য বেশি বেশি সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের সংযমের জন্য। পবিত্র কোরআনে ও হাদিসে অধিক সিয়াম পালনের নির্দেশ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামগণের রোজার ফজিলত জানার পরে এত বেশি আগ্রহ তাদের মধ্যে দেখা গেছে যে তারা প্রত্যেকেই সিয়াম রাখার জন্য রোজা রাখার জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের এমন অবস্থা ছিল কিছু কিছু মানুষের যে কেমন জানি লাগাম দিয়েও তাদেরকে থামিয়ে রাখা যাইত না। যদি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এর কথাই বলি তাহলে তিনি এ বিষয়টা জানার পর থেকে নিয়ে সারা মাস রোজা রাখতেন একটু সময় আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে মাসে তিন দিন থাকার কথা তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন আমি আরো থাকতে চাই এরপরে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আরো বলেন যে ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি আরো বেশি রোজা রাখতে চাই।

এখন প্রশ্ন হল সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম রয়েছে কিনা..? উত্তর হল প্রত্যেক ব্যক্তি হারাম দিনগুলো বাদ দিয়ে যেমন দুই ঈদের দিন কোরবানি ঈদের পরের তিনটি দিন এ সমস্ত দিনগুলো বাদ দিয়ে যে কোন দিনে সিয়াম পালন করা যায়। এটা সকলের জন্য উন্মুক্ত সবাই এটার উপর আমল করতে পারে। আর কিছু সিয়াম আছে যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু দিনে যেমন: প্রত্যেক সপ্তাহের বৃহস্পতি ও সোমবার রাসুল সাঃ রোজা রাখতেন এছাড়াও শাবান মাসে রসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অধিক রোজা রাখতেন তাকে একবার প্রশ্ন করা হলো আপনি শাবান মাসে এত রোজা রাখেন কেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন শাবান মাসে বান্দার আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রদর্শন করা হয় আর এ কারণে তিনি শাবান মাসে অধিক রোজা রাখতেন।