সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ আর তাদের একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহ তাই তারা শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করবেন তিনি যে বিধি-বিধানগুলো দিয়েছেন অর্থাৎ তার আদেশ গুলোকে পালন করবে এবং তার নিষেধ গুলোকে বর্জন করে চলবে এটাই সাধারণত মানুষের কাজ হওয়া উচিত। যদিও আমরা বর্তমান নামধারী মুসলমান হয়ে গেছি আল্লাহর ইবাদত যেভাবে করা উচিত আমরা কখনোই সেভাবে করতে পারিনা আর সেটার জন্য আমরা কোন প্রকার আফসোসও করি না কারণ আমাদের ঈমান এখন খুবই দুর্বল আমরা মুখে মুখে বলি যে এক আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আমরা তার ইবাদত করি এবং তার আনুগত্য করি কিন্তু বাস্তবে আমরা সম্পূর্ণভাবে পালন করতে পারি না যার কারণে আমাদের জীবনে অনেক পাওয়া আছে যেগুলো অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং অনেক চাওয়া আছে যেগুলো আমরা চাই কিন্তু পাই না এছাড়াও আমরা যেহেতু মানুষ সে কারণে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক আর একটি কথাও আছে মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে।
তবে আমরা অন্যভাবেও এই শিক্ষাকে এই জ্ঞানকে আমাদের মধ্যে আহরণ করতে পারি সেজন্য আমাদের মানসিক ভাবে আগ্রহ থাকা চাই আজ আমি যে বিষয়টি উপস্থাপন করতে চাচ্ছি সেটি হল মারাত্মক কিছু ভুল যেগুলো আমরা দোয়া করার সময় আল্লাহর কাছে চাওয়ার সময় করে থাকি যার কারণে আমাদের দোয়া গুলো কখনো কখনো কবুল হয় না কখনো কবুল হতে অনেক সময় লাগে তাই আজ আমি ও আমার প্রাণপ্রিয় পাঠক সকলের আমলের জন্য বা বলা যেতে পারে দোয়া কবুলের আমল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব وما توفيقي الا بالله আমরা মুসলমান হলেও অনেকেই জানিনা যে কোন কিছু আল্লাহর কাছে চাইতে হলে কিভাবে চাইতে হয় বা কোন ভাষাগুলো ব্যবহার করা উচিত। কারণ তিনি তো আমাদের প্রতিপালক আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের রিজিকদাতা মহান আল্লাহ তাআলা তাই অবশ্যই তার কাছে সর্বোচ্চ সম্মান ও আদব রক্ষা করেই আমাদের এ সকল কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া উচিত।
আসলে আল্লাহর কাছে চাওয়ার নিয়ম কি কিভাবে চাইলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফিরিয়ে দিবেন না কিছু কিছু মানুষ তো এমন আছে যে নির্দিষ্ট করে বলে দেয় আল্লাহ তুমি আমার অমুক চাকরিটা হবে দাও বা ওমুক মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দাও তবে দোয়ার এই পদ্ধতিটি ঠিক নয় কারণ আমি তো জানি না আমার জন্য কোনটা ভালো হবে কোনটা খারাপ হবে অথবা আমার ভাগ্য কি আছে বা কি নেই আমি যদি আল্লাহর কাছে কোন কিছু একদম নির্ধারিত করে বলি তাহলে তো আমি আমার ভালো মন্দ এটি আল্লাহর কাছে চাইলাম না আমি নির্দিষ্ট করে একটি জিনিস চাইলাম সেটা এমনও তো হতে পারে যে আমার জন্য ভালো না। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের কে এভাবে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে اللهم اني اسالك العافيه في الدنيا والاخره এর অর্থ হল আল্লাহ আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি চাই। একথার গভীরতা যদি লক্ষ্য করি তাহলে বুঝতে পারবো যে তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে সম্পদ বা কোন এমন বস্তু নির্দিষ্ট করে চান নাই যেটার কারণে তার জীবনে শান্তি আসবে তিনি বলেছেন যে আল্লাহ আমি দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি চাই এভাবে তিনি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন কারণ সম্পদ থাকা এর অর্থ শান্তি নয় বা সম্পদ না থাকা এর অর্থ ও শান্তি নয়।
শান্তি এমন একটি জিনিস যেটি সম্পদ থাকলেও আসতে পারে সম্পদ না থাকলেও আসতে পারে এ কারণেই তিনি সকল কিছুকে পৃথক করে শুধুমাত্র এভাবে দোয়া করেছেন যে আল্লাহ তুমি আমাকে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি দাও এখন আমার শান্তির জন্য কি প্রয়োজন কত টাকা প্রয়োজন কত সম্পদ প্রয়োজন কোন বস্তু প্রয়োজন সেটা তো আমার থেকে ভালো আমার সৃষ্টিকর্তা আমার প্রতিপালক আমার রব তিনিই জানেন তাই আমার ভালো মন্দের দায়িত্বটা তার ওপরেই ছেড়ে দেওয়া ভালো নয় আমি যদি এখানে কোন একটি বস্তু নির্দিষ্ট করে তার কাছে চাই যে সেটা আমার অশান্তির কারণ হবে বা সেটা আমার উপযোগী নয়। বুদ্ধিমান তো তারাই যারা গাছের মাথায় নয় বরং গোড়াতে পানি দেয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনেউ শিক্ষা দিয়েছেন الذين يقولون ربنا اتنا في الدنيا حسنه وفي الاخره حسنه وقنا عذاب النار যারা আল্লাহর কাছে এভাবে চায় যে হে আমাদের রব আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেন আমাদের কোনটাতে ভালো হবে সেটা দান করেন এখন আমাদের এই কল্যাণ আমাদের এই ভালো কি দিয়ে হবে কি করলে হবে সেটা আমরা জানি না।
কোন একটা জিনিস যখন আমাদের কোন জায়গায় পছন্দ হয় তখন আমরা সেটার জন্য পাগল হয়ে যাই অনেকে তো এমনও করে বসে যে আল্লাহ তুমি আমাকে এত টাকার মালিক বানিয়ে দাও আমার আর তোমার কাছে কোন চাওয়া নেই। আসলে দেখা গেছে যে টাকা পয়সার সংকট পারিবারিকভাবে সমস্যায় আছে এরপরে হিসেব করছে যে আমার এতটুকু সম্পদ থাকলে বা আমার এতটুকু টাকা থাকলে আমার এই সমস্যাগুলো চলে যাবে তখন সে আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করে আর শেষে এই কথা বলে যে তুমি আমাকে এগুলা দাও আমি আর কিছু তোমার কাছে চাইবো না। এ সকল চাওয়া বা এই সকল চিন্তা ভাবনা গুলো এক ধরনের পাগলামির মত।
দেখেন যে আল্লাহ আপনাকে আপনি যত টাকা চাইলেন সে নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা আপনাকে আল্লাহ দিল কিন্তু তার কিছুদিন পরে এমন একটি অসুখ আপনার হল যে আপনার কাছে যে এই টাকাগুলো রয়েছে সেটা পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে বা আরো কিছু টাকার প্রয়োজন তাহলে এখন আপনি কার কাছে চাইবেন কারণ আল্লাহকে তো প্রথমে বলছেন যে আল্লাহ তুমি আমাকে এটা দাও তাহলে আমি আর তোমার কাছে কিছু চাইবো না এটা কি সম্ভব আল্লাহর কাছে চাওয়া ছাড়া আল্লাহর দয়া ছাড়া আমরা কি আর অন্য কিছুর সক্ষমতা রাখি। এমনও হয় একজন মাসে লাখ টাকা বেতন পাওয়ার পরেও তার সংসারের শান্তি নাই তার মাস শেষে পকেটে ফাঁকা অপরদিকে এমনও আছে যে মাসে খুব স্বল্প পরিমাণে আয় করে কিন্তু অনেক সুখে রয়েছে এবং মাস শেষে দেখা যায় তার পকেটে কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে। বরকত আল্লাহ তায়ালা কখন কিসের ওছিলায় কিভাবে দিবেন সেটা আসলেই নির্ণয় করা খুব কঠিন। এজন্য কোন কিছু নির্দিষ্ট করে চাওয়া এটি আসলে একটি বোকামি এবং ভুল পদ্ধতি তাই আমরা সবসময় আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে সঠিক নিয়মে আল্লাহর কাছে চাইতে পারি আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকেই মাফ করে দিন। আমিন!