জিলহজ্ব মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত

অন্যান্য

জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক এমনকি পূর্ণ জিলহজ মাসটা নিয়েই হাদিসের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা:) যেভাবে এর আমলগুলো বাতলে দিয়েছেন এবং এ মাস সম্পর্কে যা বলেছেন, যে আমার নিকট যে সমস্ত মাস রয়েছে তার মধ্যে সর্ব উত্তম মাস হলো জিলহজ মাস এখন এ কথা শোনার পর অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে রমজান মাস, আসলে হুজুরে পাক (সা:) কখনো কখনো কোনো কিছুর অধিক গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে এভাবেই বলতেন আমরা যেন সেটাকে অধিক গুরুত্ব সহকারে আদায় করতে পারি আমাদেরকে বোঝাতে গিয়ে তিনি অনেক সময় একেক দিন একেক রাত এক একটি আমল এর বিষয়ে অধিক থেকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বলতেন যেন মনে হয় এটার থেকে ওইটা অনেক ভালো, আসলে বিষয়টি এমন না, এইটাও প্রিয় ওইটাও প্রিয় এইটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওইটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলকভাবে একেকটা একেক গুণের দিক দিয়ে প্রিয় একেক বিশিষ্টের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রমজান মাস তার নিজস্ব গুণাবলীর জন্য সেই প্রিয় জিলহজ মাস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে প্রিয়, এই যে প্রতি মাসে মাসে প্রতি দিনে দিনে প্রায় রাতে রাতে বিভিন্ন রাতের বিভিন্ন ফজিলত হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে বর্ণনা করেছেন যেন মনে হয় এই রাতের ইবাদত হাজার রাতের চেয়ে প্রিয়, এই দিনের ইবাদত শত দিনের এবাদতের চেয়ে উত্তম, যখন আরেকটি বিষয় আমরা শুনি মনে হয় যেন এইটা সবচেয়ে বেশি প্রিয় এইটা করলেই মনে হয় আমি নাজাত পেয়ে যাব, আমার বাবা মা নাজাত পেয়ে যাবে, এইখানেই মনে হয় আমাকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন এই ইবাদতটা করলেই মনে হয় আমি সবচেয়ে বড় নিয়ামতটা পাব এই ইবাদতটা করলেই মনে হয় আমি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হয়ে যাব।

এই যে বিভিন্ন ফজিলত ওয়ালা রাতগুলো বিভিন্ন দিনগুলো এমন ভাবে হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে এইটাই মনে হয় সব থেকে বেশি প্রিয় এটা কোনভাবেই আমার ছাড়া যাবে না। উদ্দেশ্য একটাই সামান্য সময়ের ব্যবধানে যেন এমনটা না হয় যে আমি ঈমানহারা হয়ে গেছি পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সূরা ফজরের মধ্যে বলেন وَ لَیَالٍ عَشۡرٍ ۙ আল্লাহ তাআলা দশ রাত্র দিনের কসম করেছেন সেই দশ রাত্র দিন হল জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন, এর সোয়াব এমন যে রমজান মাসের মত জিলহজ মাস এই মাসের এক একটা দিন একেকটা রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মাসের এক একটা রাতের ইবাদত শবে কদরের রাতের ইবাদতের সমান সোয়াব আল্লাহ তাআলা আপনার আমার আমলনামায় দিবেন। এবং এই দশ দিনের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের রোজা রাখার এমন ফজিলত যে এক বছর এবাদত করলে যে সোয়াব এক বছর রোজা রাখলে যে সোয়াব হবে এই এক একটা রোজার জন্য আল্লাহ তাআলা সেই সোয়াব দান করবেন। এই দশ দিনের মধ্যেও একটি বিশেষ দিন রয়েছে দিনটি হলো নয় জিলহজ আরাফার‌ দিন।

আরাফার দিনে রোজা রাখার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল বলেন أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ، এই মাসে ইবাদত করার জন্য আপনি এক বছরের সোয়াব তো পাবেনই এর সাথে সাথে পেছনের এক বছরের গুনাহ এবং সামনের এক বছরের গুনাহ আল্লাহতালা আপনাকে মাফ করে দিবেন যদিও সেই সময়টা আপনি এখনো অতিবাহিত করেন নাই তারপরও আল্লাহ আপনার সেই গুনাহটা মাফ করে দিবেন। এখানে আমরা অনেকেই মনে করি যে সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে অর্থাৎ সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে কিন্তু শিরক এর গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। যেসব গুনাহ গুলো এসব কারণে মাফ হবে এগুলা হচ্ছে সগিরা গুনাহ। এখন তাহলে কবিরা গুনাহগুলো আমরা কিভাবে মাফ করবো..?

এ সকল দিনগুলো যেগুলোতে এমনিতেই সগিরা গুনাগুলো আল্লাহ মাফ করে দেন এই সময়ে এই দিনগুলোতে একটু যদি আল্লাহর কাছে বিশেষ ভাবে কেঁদে বলা যায় এমনও তো গুনাহ আছে আমি ছাড়তে চাই কিন্তু ছাড়তে পারছিনা এমনও তো গুনাহ আছে আমি বলতে চাই কিন্তু বলতে পারছি না তাহলে আমার জন্য তো সাধারণ ক্ষমার সুযোগ এসে গেছে যেহেতু আমার সগিরা গুনাহগুলো আল্লাহতালা এমনি এমনি মাফ করে দিচ্ছেন এক এক বছরের ইবাদতের সোয়াব পেয়ে যাচ্ছি এক এক বছরের রোজার সোয়াব পেয়ে যাচ্ছি তাহলে এই দিনগুলো তো বিশেষ দিন অন্য দিন হয়তো আল্লাহর কাছে হাজার বার তওবা করলে আল্লাহ তা’আলা কবুল করতেন তাহলে এটা কি সম্ভব না যে আজকের দিনে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করবেন। আল্লাহ কি পারেন না আমাদের সকলকে ক্ষমা করে দিতে। আল্লাহ তো গফুরুর রহিম পরম দয়ালু ক্ষমাশীল, তাই আমরা সকলেই নিরাশ না হয়ে এই বিশেষ দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে বিশেষ কিছু হাসিল করার জন্য আমাদের সকল গুনাহ গুলোকে মাফ করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করি আল্লাহর কাছে চাই আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এ বিষয়গুলোর উপরে আমল করার তৌফিক দিন। আমিন!