এমন চারটি আমল যেটা আপনাকে এইভাবে উপকার করবে যে আপনার যদি মনে হয় একদম দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে অর্থাৎ আপনি একদম নিরুপায় নিঃসহ এমত অবস্থায়ও যদি কেউ এই চারটি আমল করতে পারে তাহলে যে কোন বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে এবং তার যে কোন চাওয়া পাওয়া আল্লাহ তাআলা পূরণ করবেই ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ এরপরেও যদি কখনো কারো কোন কিছু অপূর্ণ থেকে যায় তাহলে এটা মনে করা যে হয়তো আমার আমলের মধ্যে কোন কমতি থেকে গেছে অথবা আল্লাহ তাআলার কাছে আমি যা চাইতেছি সেটা না পাওয়ার মধ্যেই আমার মঙ্গল রয়েছে। আসলে আমাদের ভালো-মন্দ সবকিছুই তো আল্লাহ এর থেকে বেশি কেউ জানে না তাই আল্লাহ যা করেন অবশ্যই আমার আপনার ভালোর জন্যই করেন।
১. ইস্তেগফার পড়া।
ইস্তেগফার এমন একটি আমল যেটার কারণে আল্লাহ তাআলা শুধুমাত্র আপনার গুনাহ মাফ করবেন এমনটাই নয় বরং আপনার যদি কোন বিপদ হয়ে থাকে কোথাও এমন কোন বড় বিপদে পড়ে গেছেন যেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া খুব কঠিন তবুও যদি আপনি এই ইস্তেগফারের আমল করতে পারেন তাহলে আল্লাহতালা আপনার হেফাজত করবেন এবং যদি এমন হয় যে আপনি এমন কিছু চাইতেছেন যেটা তাই অসম্ভব এরপরও আপনার আমলের বরকতে আল্লাহ তা’আলা আপনার মনের আশা অবশ্যই পূরণ করবেন ইনশাআল্লাহ। এছাড়া আমাদের নবী তো বলেই গেছেন যে যেই ব্যক্তি ইস্তেগফার কে আঁকড়ে ধরবে এমনটি যদি কেউ করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার সকল পেরেশানি সকল টেনশন থেকে তাকে মুক্তি দিবেন। এবং তার সকল বিপদ আপদ থেকে এমন ভাবে তাকে মুক্তি দিবেন যে সেটা সে কল্পনাও করতে পারবে না।
২. দরুদ শরীফ পাঠ করা।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরুদ পাঠ করা। সেটা যে কোন দরুদ হতে পারে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একদা এক সাহাবী এলো এবং জিজ্ঞাসা করল হে আল্লাহর রাসূল আমার দোয়ার মধ্যে আমি দরুদ শরীফ কত টুকু রাখবো এবং এবং এরপর সে এক্তির পর একটি পরিমাণ বলতে লাগলো কিন্তু উত্তরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র এতোটুকু বললেন যে তুমি যদি এর থেকেও বেশি পড়তে পারো তাহলে আরো ভালো এ কথা শুনে উক্ত সাহাবী নবী করিম সাঃ কে জিজ্ঞাসা করলেন যদি আমার পূর্ণ দোয়াটাই আমি দরুদ শরীফ পড়ি তখন জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হলে তোমার আর কোন দোয়াই করার প্রয়োজন নেই ওই একটার বদৌলতেই আল্লাহ তোমাকে সব দিয়ে দেবেন। কারন আমরা যদি একটু ভেবে দেখি যে আমি যদি কারো কাছ থেকে কোন কিছু হাসিল করতে চাই বা কারো দ্বারা কোন উপকার নিতে চায় তাহলে আমার সম্পর্ক তার সাথে যতটুকু ভালো হওয়া লাগবে সমপরিমাণ তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও আমার আন্তরিকতা থাকাটা ভালো তাহলে আমার এই প্রয়োজনটা আমি খুব সহজেই মিটিয়ে নিতে পারবো। পক্ষান্তরে আমাদের নবী হচ্ছেন আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল আমাদের প্রতিনিধি এবং আল্লাহর পেয়ারা হাবিব তাই আমরা যখন রাসূলের ভালোবাসায় রাসূলের উপর দরুদ পড়বো আল্লাহ তাআলা আমাদের মনের সকল ইচ্ছেকে তার হাবিবের উসিলায় পূরণ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
৩. দোয়া ইউনুস পাঠ করা।
দোয়া ইউনুস যে কতটুকু কার্যকারী তা আমরা কম বেশি সকলেই জানি এ দোয়া ইউনুস এর বদলাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের ইউনুস নবীকে মাছের পেট থেকে উদ্ধার করেছিলেন কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা একটি বড় ভুল যেটা প্রায় সবাই করে থাকি এই আমলটুকু আমরা নিজেরা না করে বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এটা করিয়ে নিয়ে থাকি। যেকোনো আমল বা যে কোন কাজই হোক না কেন নিজেরটা নিজে করার মধ্যেই সফলতা রয়েছে। তাই কখনো কখনো যদিও এই আমলগুলো নিয়মিত করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়েও যায় এরপরও আমাদের উচিত যথাসাধ্য চেষ্টা করা এবং সময় মত এই আমলগুলো করা তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে অলৌকিক ঘটনা মাছের পেট থেকে যেভাবে ইউনুস আলাইহিস সালামকে বের করেছিলেন ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহতালা আমাদেরকেও সফলতা দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
৪. يا ذا الجلال والاكرام (ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম) বেশি বেশি পাঠ করা।
এটার অর্থ হলো আল্লাহকে ডাকা কিন্তু এই ঠাকার পদ্ধতিটা বা এই ডাকাটা আল্লাহর খুব পছন্দনীয়। এটার অর্থ মূলত হে ক্ষমতার অধিকারী, হে বড়ত্বের অধিকারী, আসলে আল্লাহ তো সকল কিছু উপর কর্তৃত্ব রাখেন সকল কিছুর জন্য ক্ষমতাবান। যেহেতু আপনার বরত্ব আপনার ক্ষমতা আছে সেহেতু আমি নিরুপায় আমি নিঃস্ব একজন মানুষ আপনার এক নিরীহ বান্দা আমাকে আপনি সেটা দান করুন। আমরা সকলেই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে এগুলোর প্রতি আমল করার চেষ্টা করব তাহলে অবশ্যই আমাদের সকল বিপদ সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।