ইসলামী শিক্ষা ও শিক্ষার সম্পদ:

অন্যান্য

আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় পাঠক আজ আমরা জানবো ইসলামিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষা নামক মহামূল্যবান সম্পদ অর্জন।
প্রিয় পাঠক পবিত্র কোরানে আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম যে কথাটি বলেছেন সেটি হল (ইকরা) অর্থাৎ পড়ো জ্ঞান অর্জন করো এর থেকে আমরা বুঝতে পারি ইসলাম জ্ঞানের ধর্ম প্রিয় পার্থ আমরা একবার ভেবে দেখি এই যে পড়ার কথা আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম বর্ণনা করলেন এটি কিন্তু ইসলামের অন্যান্য যে সকল বিষয় আছে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এ সকল বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আল্লাহ পাক সর্বপ্রথমে পড়ার কথা বললেন তাহলে এখান থেকে বোঝা যায় যে ইসলাম জ্ঞানের ধর্ম ইসলাম জ্ঞানীদের ধর্ম ইসলাম পৃথিবীতে মুসলমানদেরকে জ্ঞানে শিক্ষায় এবং এলমে উন্নত ও সমৃদ্ধ হওয়ার কথা বলে এমনটি না হলে আল্লাহ তাআলার সর্বপ্রথম বিধান (ইকরা) বা পড়ো হতো না।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন। فاعلم انه لا اله الا اله অর্থাৎ হে রসুল আপনি এই মর্মে জ্ঞান অর্জন করুন যে আল্লাহ ছাড়া সত্যিই কারো কোন মাবুদ নেই। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের মাবুদ জেনেই এই বিষয়টার ওপরে জ্ঞান অর্জন করুন। কোরআন সম্পর্কিত জ্ঞান আমাদেরকে অর্জন করতে হবে সবকিছুর আগেই। এমনক لا اله الا الله এর প্রতি ঈমান আনায়ন এরো আগে হল আমরা কিসের প্রতি ঈমান আনতেছি তার ওপর জ্ঞান অর্জন করা। এজন্য ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাত গ্রন্থ সহীহ বুখারীর মধ্যে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যেটা
باب العلم قبل القول والعمل به এই নামে পরিচিত অর্থাৎ এই অধ্যায় টি হল যে কোন বিষয়ে কথা এবং কাজের আগে এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে আপনি ইসলামের কোনো কাজ করবেন তাহলে সে বিষয়ে আপনাকে আগে নলেজ অর্জন করতে হবে সঠিক বেঠিক ধারণা আগে আপনাকে নিতে হবে এটাই হল ইসলাম শিক্ষা কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এটা যে আমরা যারা জন্মগতভাবে মুসলিম আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই টেন্ডেন্সি হলো যে আমরা ইসলামের নামে অনেক কাজ করি কিন্তু সে বিষয়ে ইসলাম কি বলে সেটা আমরা ভালো করে জানিই না যার কারনে কোন একটা সময়ে যে আমরা বিভ্রান্তি পড়ে যাই বা কোন একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। এজন্য আমি সকলকে অনুরোধ করবো যে আমরা যেকোনো বিষয়ে সেটা হতে পারে ইসলামিক কোন বিষয় হতে পারে জেনেরাল কোন বিষয় যে বিষয়ই হোক না কেন সে বিষয়ে আগে আমরা জ্ঞান অর্জন করি এরপরে সেটা করার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবো।

এছাড়াও আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসের মধ্যে বলেন طلب العلم فريضه على كل مسلم — এলমেদিন অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। অর্থাৎ যতটুকু এলেম না জানলে ইসলামের সাময়িক ব্যাধি নিষেধগুলো হালাল হারাম গুলো পার্থক্য করা যায় না যতটুকু আলেম না জানলে নিজেকে ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখা যায় না যতটুকু এলেম তথা জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। এটা আমাদের উপর ফরজ করা হয়েছে আমরা যদি এটাকে না মানি তাহলে আমাদের ফরজ তরফ করলে যে গুনাহ হয় সেগুনায় আমাদের আমল নামাতে লিপিবদ্ধ করা হবে। যতটুকু আলেম না জানলেই নয় ততটুকু এলেম অর্জন করাই ফরজ। এমনটি নয় যে সারা বিশ্বের যত কিছু আছে সবই আমাকে জানতে হবে প্রত্যেকটা হাদিস এবং কোরআনের প্রত্যেকটা আয়াতে মহান আল্লাহ কি বলেছেন প্রিয় নবী কি বলেছেন সেটা জানতে হবে।


যেমন বিষয়টা আমরা এভাবে নোট করলেও পারি
১. ঈমান সম্পর্কে বেসিক নলেজ আমার থাকতে হবে।
২. ইসলামের পাঁচটি রোকন এর ওপরে বেসিক নোলেজ আমার থাকতে হবে।
৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমাকে পড়তে হয় এটা ফরজ করা হয়েছে এ সম্পর্কে বেসিক নলেজ আমার থাকতে হবে।
৪. রোজা সম্পর্কে ধারণা আমাকে নিতে হবে।
ইত্যাদি এরকম যে বিষয়গুলির সাথে আমরা সর্বদা সম্পৃক্ত যেগুলো না হলেই না এ বিষয়গুলির ওপরে ইসলামিক বেসিক নলেজ নেওয়াটা আমার উপর জরুরী।
এখন কথা হলো একজন মুসলমান তার এ সমস্ত বেসিক নলেজ গুলা কোথায় থেকে সে অর্জন করবে একজন মুসলমানের ইসলামিক নলেজের প্রধান সূত্র হল দুইটি।
১. কোরআন ২. হাদিস
কোরআন থেকে আমরা জ্ঞান আহরণ করবো।
হাদিস থেকেও আমরা জ্ঞান আহরণ করবো।
কোরআন এবং হাদিসের আলোকে ওলামা একরাম আমাদেরকে যে নির্দেশনা গুলি দিবেন সেগুলো থেকে আমরা জ্ঞান অর্জন করব। বেসিক এবং মৌলিক ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সূত্র হলো দুটি যা থেকে আমরা দলিল গ্রহণ করব। কোরআন এবং হাদিস অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে কেউ কোনো কথা বললে তার সে কথা হয়তো বা কোরআন অনুযায়ী হতে হবে অথবা হাদিস অনুযায়ী হতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে বর্তমান সময়ে আমরা অধিকাংশ মানুষই কোরআন পড়তে জানি না খুব অল্প কিছু মানুষ কোরআন পড়তে জানলেও তার অর্থ আমরা জানি না যে কারণে সেভাবে আমরা আমলও করতে পারি না। এজন্য আমরা সর্বদাই হক্কানী আলেম ওলামাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখব এবং প্রত্যেকটি বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সুপরামর্শ নিব তাহলেই আমরা আমাদের জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আর এভাবেই এই ইসলামী জ্ঞান আমাদের একটি মহামূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত হবে।